বালি ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় অপপ্রচারের শিকার ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিমের অভিযোগ
“অবৈধ বালি উত্তোলন, নদীভাঙন ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগ; সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাবেন বলে দাবি”
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম, এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আশুগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বৈষম্য ও মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তার দাবি, আশুগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। এর ফলে চর সোনারামপুর এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইভাবে পানিশ্বর এলাকায় অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পানিশ্বর বাজারও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ডালিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রমিন ফারহানা প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় একটি মহল তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তার অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া পোস্টগুলোতে তাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেওয়ার সময় তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে তার একটি ছবি তোলা হয়েছিল। এছাড়া স্থানীয় এক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা আরেকটি ছবি একটি সামাজিক সালিশ অনুষ্ঠানে তোলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের সঙ্গেও তার ছবি রয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ছবি ব্যবহার করেও অপপ্রচার চালানো হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ডালিমের দাবি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং আশুগঞ্জ উপজেলার আন্দোলন সংগঠিত করতেও ভূমিকা রাখেন। তিনি বলেন, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে আন্দোলনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ৩ আগস্ট থেকে তিনি সরাসরি আন্দোলনে যুক্ত হন। ৪ আগস্ট শাহবাগে আন্দোলনের সময় টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে আহত হন। ৫ আগস্ট ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে শাহবাগ অভিমুখে যাওয়ার পথে পুলিশের ধাওয়ার মুখে প্রাণ বাঁচাতে দীর্ঘ পথ দৌড়ে শাহবাগে পৌঁছান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম ডালিম বলেন, তার নামে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক ও নিউজ এডিটরের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি পাঠানো হবে। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত অপপ্রচার পরিকল্পিত এবং এর উদ্দেশ্য অবৈধ বালি উত্তোলন ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে দুর্বল করে দেওয়া।
Sharing is caring!