৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার

Manual1 Ad Code

স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার

লোকমান ফারুক, রংপুরঃ শনিবার দুপুর। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করিডোরে সেই চিরচেনা ভিড় হুইলচেয়ার, স্ট্রেচার, অপেক্ষমান স্বজন, আর দেয়ালে হেলান দিয়ে থাকা ক্লান্ত সময়। এই ভিড়ের ভেতর দিয়েই হাঁটলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ হুজুর আলী। পাশে হাসপাতালের কর্মকর্তারা। সামনে কিছু দরজা খোলা, কিছু আধখোলা যেন সেবার ভেতরেও এক ধরনের দ্বিধা। তিনি ওয়ার্ডে ঢোকেন, ইউনিট ঘুরে দেখেন। বিছানায় রোগী, বিছানার পাশে আত্মীয়, আর মাঝখানে চিকিৎসা ব্যবস্থার বাস্তবতা। কাগজে-কলমে যে সেবা তার সঙ্গে চোখে দেখা সেবার ব্যবধান মাপা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।

পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত কথায় তিনি বলেন স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাক্যটি পরিচিত। বহুবার শোনা। সরকারি বিবৃতির মতোই স্থির, নিরাবেগ। কিন্তু করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা এক বৃদ্ধার চোখে সেই বাক্যের অনুবাদ আলাদা  “ডাক্তার কখন আসবে?” অতিরিক্ত সচিব স্বীকার করেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। এই স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়নের ভাষায় ‘চলমান’ শব্দটি প্রায়ই বাস্তবতার ওপর একটি নরম চাদর ফেলে দেয়। তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করতে এ ধরনের পরিদর্শন চলবে।

Manual6 Ad Code

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাশে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি প্রশাসনিক কাঠামোর দৃঢ়তা দেখায়, কিন্তু রোগীর পাশে বসে থাকা স্বজনের কাছে কাঠামো নয়, দরকার ফলাফল। এই হাসপাতাল শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, রংপুর বিভাগের অসংখ্য মানুষের শেষ ভরসা। এখানে আসা মানে অনেক সময় শেষ চেষ্টা। সেই চেষ্টার ভেতর যদি দেরি থাকে, ঘাটতি থাকে, তাহলে উন্নয়ন শব্দটি কাগজে থাকে জীবনে নয়। সরকারের বক্তব্য পরিষ্কার সেবা পৌঁছাতে হবে মানুষের দোরগোড়ায়। কিন্তু প্রশ্নটা সেখানেই দোরগোড়া কোথায়? শহরের হাসপাতালের গেট, না গ্রামের ঘরের উঠান?

Manual1 Ad Code

আরও একটি প্রশ্ন থেকে যায় পরিদর্শন কি কেবল দেখার জন্য, নাকি বদলের সূচনা করার জন্য?
শেষ পর্যন্ত হিসাবটা সহজ ঘোষণা বনাম অভিজ্ঞতা।
কথা বনাম সেবা। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোই আসল সাক্ষী। তাদের সাক্ষ্য কি কখনও নীতিনির্ধারণের টেবিলে পৌঁছায়?

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code