প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মাদক বাণিজ্য : আতঙ্কে এলাকাবাসী
আনোয়ার হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নে মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঘোষতলা গ্রামের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোমিন (পিতা: মৃত আব্দুল হালিম বেন্টার) দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ একাধিকবার তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও দুঃখজনকভাবে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, মোমিন শুধু মাদক ব্যবসার সঙ্গেই জড়িত নয়, বরং প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও চালাচ্ছে। ফয়সাল নামের এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করার পর তার বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা হলেও, সিন্ডিকেটের প্রভাব ও অর্থের জোরে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
এছাড়াও, রাসেল বাঙালী নামের এক যুবক মোমিনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় মোমিনের সহযোগী হিসেবে তার ভাই গোলাফ, আবুল, ভাতিজা বাবু এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে এ ঘটনায়ও মামলা দায়ের করা হয়।
জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের কাখৈরখোলা গ্রামে মাদকসহ আটক দুই যুবক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, তারা মোমিনের হয়ে মাদক বহন করছিল। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
এতসব অভিযোগ ও প্রমাণ থাকার পরও মোমিনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসনের নীরবতা কি মাদক ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে?
এলাকাবাসীর দাবি, মোমিন, তার ভাই গোলাফ ও আবুলের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রামসহ বিভিন্ন থানায় ৫০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তাদের ব্যবহৃত একাধিক যানবাহন মাদকসহ আটক হয়ে থানায় রয়েছে বলেও জানা গেছে।
তিন মাস আগে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ মোমিন গ্রেপ্তার হলেও কিছুদিন জেল খেটে বের হয়ে আবারও একই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন—
মাদক ব্যবসায়ী মোমিন এবং তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি যারা তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, সেই সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব বা পরিচয়ের আড়ালে যেন কোনো মাদক ব্যবসায়ী রক্ষা না পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।
মাদক একটি সমাজ ধ্বংসকারী ব্যাধি। এটি শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই এখনই সময়—মাদক নির্মূলে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার।
আমরা চাই একটি মাদকমুক্ত সমাজ, যেখানে যুবসমাজ আলোর পথে এগিয়ে যাবে।
Sharing is caring!