উন্নয়ন কাজে বাধা: লংগদু–নানিয়ারচর সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ
আনোয়ার হোসেন বিশেষ প্রতিনিধিঃ রাঙামাটির লংগদু–নানিয়ারচর সংযোগ সড়কের উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারী একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। সড়কের মাটি কেটে ফেলা এবং বড় বড় গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে তারা চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছর পার হলেও দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পরও রাঙামাটি জেলা সদরের সঙ্গে লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি স্থাপিত হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনের উদ্যোগে অবরুদ্ধ সড়কটি দ্রুত চালু করা এবং প্রকৃত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ এই অবরোধের কারণে পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং সড়কটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, জরুরি রোগী পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, লংগদু–বাঘাইছড়ি–নানিয়ারচর উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ লংগদু–নানিয়ারচর সংযোগ সড়কের মাটি কাটার কাজ শুরু করে। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কাজ পুনরায় শুরু হলে রাতে অন্ধকারে কাজ করা দুটি এক্সকাভেটরে বালু, কংক্রিট ও পানি ঢেলে ইঞ্জিন অচল করে দেওয়া হয় এবং এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির কাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করা না হলে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করা, সড়কের অবরোধ অপসারণ এবং উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, লংগদু–নানিয়ারচর সংযোগ সড়কটি চালু হলে রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। তাই উন্নয়ন কাজ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
Sharing is caring!