৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

লিখিত আদেশ ছাড়াই সরে দাঁড়াতে বলা হলো রেজিস্টারকে

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ণ
লিখিত আদেশ ছাড়াই সরে দাঁড়াতে বলা হলো রেজিস্টারকে

Manual5 Ad Code

লিখিত আদেশ ছাড়াই সরে দাঁড়াতে বলা হলো রেজিস্টারকে

লোকমান ফারুক, রংপুরঃ রবিবার সকাল। কুয়াশা কাটেনি পুরোপুরি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢোকার সময় রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদের হাতে ছিল একটি ফাইল। নিয়মিত দিনের মতোই। কিন্তু দিনটি নিয়মিত ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এমন তথ্য একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হন তিনি। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো আদেশ এখনো জারি হয়নি, তার পরিবহন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলীর দপ্তরে একটি বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন শিক্ষক, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তরিকুল ইসলাম, কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানসহ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন। বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু বৈঠকের পরপরই রেজিস্ট্রারের দপ্তরে নড়াচড়া শুরু হয়।
ড. হারুন বলেন, “গতকাল একজন শিক্ষক ফোন করে আমাকে অফিসে না আসতে বলেন। বলেন, ছুটিতে থাকুন। আমি বলেছি, কেন? লিখিত নির্দেশ দিন।”
তিনি থামলেন। তারপর যোগ করলেন, “আজ সকালে অফিসে এলে আবার ফোন। বলা হলো, অফিস ছাড়ুন।

Manual1 Ad Code

দুপুরের দিকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার তার দপ্তরে যান। অভিযোগ আছে, সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরে যেতে বলা হয়। ড. হারুনের ভাষ্য, “একটি দল এসে বলে গেছে, আমার কাছে যেন কোনো ফাইল না আসে। আমার দপ্তরের লোকজনকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে নির্বাচনকে ঘিরে তাকে ‘জামাতি রেজিস্ট্রার’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়,”চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা চলছিল আগেই।”

দুপুরে আরেকটি দৃশ্য তৈরি হয়। ড. হারুন গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে জানানো হয়, পরিবহন সুবিধা বাতিল। ‘আপনি আর গাড়ি পাবেন না,’ এমনটাই বলা হয় বলে দাবি তার। পরে তিনি রিকশায় করে ক্যাম্পাস ছাড়েন।
সূত্র জানায়, জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে দু’এক দিনের মধ্যে তার চুক্তি বাতিল করে নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “আমি মিটিংয়ে ছিলাম। তবে সেটি অন্য বিষয়ে। রেজিস্ট্রারের বিষয়ে কোনো মিটিং হয়নি। এ বিষয়ে বলার এখতিয়ারও আমার নেই। উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলুন।”

Manual5 Ad Code

উপাচার্যের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলে তার ব্যক্তিগত সচিব মো. খাইরুল ইসলাম জানান, “স্যার মিটিংয়ে আছেন। কখন শেষ হবে বলা মুশকিল।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে-ভেতরে প্রশ্ন ঘুরছে এটি কি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নাকি রাজনৈতিক চাপের ফল? একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন চুক্তিভিত্তিক রেজিস্ট্রারকে সরানোর প্রক্রিয়া কি এভাবেই শুরু হয় মৌখিক নির্দেশ, পরিবহন বাতিল, দপ্তর খালি করা?
বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ইট-সিমেন্ট নয়। এখানে বিধি আছে, প্রক্রিয়া আছে, নথি আছে। প্রশ্ন হলো, সেই প্রক্রিয়াগুলো কি অনুসৃত হচ্ছে? নাকি ক্ষমতার অদৃশ্য রেখাই ঠিক করে দিচ্ছে কে থাকবে, কে যাবে?
এই ঘটনার নথি হয়তো শিগগিরই প্রকাশ পাবে। কিন্তু তার আগে যে নীরবতা তৈরি হলো তার দায় নেবে কে?

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code