৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাষ্ট্রের নীরবতায় ছাত্রদের কণ্ঠ: রংপুরে ‘হ্যাঁ মার্চ’-এর নেতৃত্বে রিফাত রশীদ ও আসিফ আল ইসলাম

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
রাষ্ট্রের নীরবতায় ছাত্রদের কণ্ঠ: রংপুরে ‘হ্যাঁ মার্চ’-এর নেতৃত্বে রিফাত রশীদ ও আসিফ আল ইসলাম

Manual1 Ad Code

রাষ্ট্রের নীরবতায় ছাত্রদের কণ্ঠ: রংপুরে ‘হ্যাঁ মার্চ’-এর নেতৃত্বে রিফাত রশীদ ও আসিফ আল ইসলাম

লোকমান ফারুক রংপুরঃ বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে ম্লান হচ্ছিল। রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে একটি ভ্যানের পাশে জড়ো হয়েছিলেন কিছু মানুষ—কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে। ভ্যানে চলছিল একটি ডকুমেন্টারি। পর্দায় ভেসে উঠছিল সাম্প্রতিক ইতিহাস, আন্দোলন, শহীদের মুখ। শব্দ ছিল, কিন্তু মাঠজুড়ে এক ধরনের নীরব মনোযোগ। এই আয়োজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গড়তেই এই প্রদর্শনী ও পরবর্তী কর্মসূচি।

Manual1 Ad Code

ডকুমেন্টারি শেষ হওয়ার পর মাঠ ছেড়ে বের হয় একটি প্রচারণা র‌্যালি। নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশীদ ও মুখ্য সমন্বয়ক আসিফ আল ইসলাম। র‌্যালিটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে—এ সময় দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ, রিকশাচালক, পথচারীরা কেউ থামেন, কেউ কেবল তাকিয়ে দেখেন। র‌্যালি শেষে প্রেসক্লাবের সামনে রিফাত রশীদ বলেন, “এটি কেবল একটি মার্চ নয়। এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতা। একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জরুরি।” তার বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে ‘শহীদ’ শব্দটি। “শহীদদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ এসেছে, সেটিকে ব্যর্থ করতে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে, বললেন তিনি। ” আমরা সেই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি।

Manual4 Ad Code

আসিফ আল ইসলাম আরও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্র ও রাজনীতির ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, “গণভোট নিয়ে সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। যেন বিষয়টি গুরুত্বহীন।” তার ভাষায়, এটি উদাসীনতা নয়—এটি ক্ষমতার নেশা। “সম্প্রীতির বাংলাদেশে ফিরে আসুন। না হলে জনগণই আপনাদের জবাব দেবে। তাদের বক্তব্যে হুঁশিয়ারিও ছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি নিয়েও কথা বলেন তারা—যা সমর্থকদের হাততালিতে ঢাকা পড়ে যায়, কিন্তু আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের মুখে প্রশ্নের ছাপ রেখে যায়।

Manual4 Ad Code

এর আগে, দুপুরে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ সোহাগের কবর জিয়ারত করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে কথা বলেন, খোঁজ নেন। সেখানে কোনো স্লোগান ছিল না, ছিল না মাইক। ছিল কেবল স্বল্পভাষী সাক্ষাৎ—যেখানে রাজনীতি নয়, উপস্থিত ছিল ক্ষতি আর শূন্যতার বাস্তবতা।

রংপুরের এই ‘হ্যাঁ মার্চ’ বড় কোনো সমাবেশ নয়। এটি শক্তির প্রদর্শনীও নয়। এটি বরং একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—গণভোট কি কেবল আনুষ্ঠানিকতা, নাকি সত্যিই জনগণের মত জানার সুযোগ?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও মাঠে নেই। আছে মানুষের চোখে, নীরবতায়, আর সেই বিকেলের আলোয়—যা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code