২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

কাস্টমস জটিলতা: সময় ও খরচের চাপ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ণ
কাস্টমস জটিলতা: সময় ও খরচের চাপ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

শুল্কায়ন জটিলতাকে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাড়ে হয়রানি-দুর্নীতি; যা বাড়িয়ে দেয় খরচ ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সময়। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস সামনে রেখে এমন অবস্থার পরিত্রাণ চান তারা।

Manual6 Ad Code

তবে রাজস্ব আদায় ঠিক রেখে ভোগান্তি কমাতে সফটওয়্যার নির্ভর ব্যবস্থা বাড়ানোর আশ্বাস জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আর এই পুরো কার্যক্রমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ বিশ্লেষকদের।

Manual6 Ad Code

কাস্টমস জটিলতা: সময় ও খরচের চাপ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের

বন্ড সুবিধার বাইরে প্রায় সব ধরনের আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পরিশোধ করেন ব্যবসায়ীরা। এইচএস কোড, পণ্যের ধরনসহ হরেক রকম কর কাঠামো নিয়ে প্রায় সময়ই পড়তে হয় জটিলতায়।

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, আমাদের যে পরিমাণ লিড টাইম নষ্ট হয়, সেটি পৃথিবীর কোনো প্রতিযোগী দেশ; এমনকি পাকিস্তানেও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য এত সময় লাগে না।

তিনি আরও বলেন, পণ্য জাহাজ থেকে নামার পর ফ্যাক্টরিতে আসতে সাধারণত তিন দিন লাগার কথা থাকলেও কাস্টমস টেস্টিংয়ে পাঠালে ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লেগে যায়। আমরা যদি টোটালি অটোমেশনে না যাই, তবে এটি আমাদের জন্য একটি বিশাল ডিসঅ্যাডভান্টেজ।

এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুল্ক, ভ্যাট ও কর- তিন বিভাগ মিলিয়েও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে সংস্থাটি।

এর মধ্যে কাস্টমসের আদায়ে ঘাটতি থেকে গেছে ১২ হাজার কোটি টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানি পণ্যের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনেক সময় অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য হন তারা। অসাধু কর্মকর্তাদের হয়রানির কারণে কাঁচামাল হাতে পেতে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রিতা।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসইনী বলেন, কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত কারণে অফিসে না থাকলেও পণ্য আটকে গিয়ে ডেমারেজ তৈরি হয়।

ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত এই ধীরগতি কাটাতে অনেক সময় ব্যবসায়ীরা আন্ডারহ্যান্ড ডিল বা ‘স্পিড মানি’ দিতে বাধ্য হন, যা দিলে কাজ দ্রুত শুরু হয়ে যায়।

বাংলাদেশের নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ব্যবসায়ীরা এমন কাস্টমস ব্যবস্থা চান যা অটোমেশনের মাধ্যমে সবাইকে দুর্নীতি থেকে সরে আসতে বাধ্য করবে।

তবে জটিলতার কারণ হিসেবে অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ী করছে এনবিআর। সংস্থাটির দাবি, মানিলন্ডারিংসহ চোরাচালান রোধ করা গেলে সৎ ব্যবসায়ীদের মুক্তি মিলবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেন, সফটওয়্যার তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, যা রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিটের মাধ্যমে দ্রুত মালামাল খালাসে সহায়তা করবে। পণ্য নিষিদ্ধ কি না তা টেস্ট করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়, যা কমানোর চেষ্টা চলছে।

শুল্কায়ন জটিলতার ভার কেবল ব্যবসায়ীকে নয়, এর ওজন বইতে হয় ভোক্তাকেও। তাই ব্যবসা সহায়ক নীতি না করে, কেবল অটোমেশন কোনও সমাধান দেবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের ওভারঅল ইকোনমি ভালো করতে হলে ডাইরেক্ট ট্যাক্সেশনের দিকে নজর দিতে হবে, ট্যাক্সের ভিত্তি বাড়াতে হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যা যেন ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতে সমাধান করা যায় সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে।

Manual2 Ad Code

আয়কর বিশ্লেষক মো. আলিমুজ্জামান বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসের চেয়ে ওভার ইনভয়েস বেশি ভয়ের কারণ। সিস্টেমটি এমন হওয়া উচিত যা ব্যবসায়ীদের সৎ হতে উৎসাহিত করবে। অটোমেশন যাই হোক না কেন, ইনপুটের গোড়া ঠিক করা জরুরি।

ব্যবসাবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি না হয়, সেই তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।

Manual6 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code