স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
নতুন শিক্ষাবর্ষে বদলেছে দেশের পাঠ্যক্রম। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বইয়ে এসেছে একাধিক পরিবর্তন। যুক্ত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, বাদ পড়েছে কিছু পুরনো লেখা। তবে ঘন ঘন এই পরিবর্তনে পড়াশোনায় স্বস্তির চেয়ে বিভ্রান্তিই বাড়ছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
নতুন শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিকের বইয়ে একাধিক পরিবর্তন, কী প্রতিক্রিয়া?
১৯৭২ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যক্রম বদলেছে সাতবার। সব চেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা যায় ২০২২ সালের শিক্ষাক্রমে। জন-অসন্তোষের মুখে সেটি বাতিল করে ২০২৫ সালে নতুন পাঠ্যক্রম চালু করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এক বছরের মাথায় পাঠ্যক্রমে আবারও পরিবর্তন আনা হয়, যার বেশিরভাগটাই এসেছে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ে। ইতিহাসের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু। অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য-কণিকা বই থেকে বাদ দেয়া হয়েছে একটি গদ্য।
শিক্ষার্থীরা বলছে, পাঠদান ও মূল্যায়নে বারবার এই পরিবর্তনে ব্যাঘাত ঘটছে পড়াশোনায়। একটা জিনিসে অভ্যস্ত থাকার পর হঠাৎ করে নতুন কিছু এলে ওইটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়ে যায়। পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে মূল্যায়নসহ অন্যান্য কার্যক্রমে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়।
শিক্ষকরা বলছেন, বারবার পরিবর্তনের ফলে নতুন পাঠ্যক্রমের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বেগ পেতে হচ্ছে মফস্বলের স্কুলগুলোর।
কেরানীগঞ্জের ইস্পাহানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, পাঠ্যক্রমে ঘনঘন পরিবর্তন হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। তাদের পরীক্ষায়ও একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার পাঠ্যক্রমের এ পরিবর্তন তখনই কার্যকর হবে, যখন শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম আসলে কোনো অপরিবর্তনীয় বিষয় নয়। এটি আসলে সময় এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন করতেই হবে। কিন্তু শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কিছু নির্দিষ্ট ধাপ এবং পদ্ধতি আছে। কী ধরনের মানব সম্পদের চাহিদা রয়েছে, সেই বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয়।
নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২১ কোটি ৪৩ লাখ নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছে এনসিটিবি। যদিও মাধ্যমিক স্তরের অনেক শিক্ষার্থীই এখনো হাতে পায়নি নতুন বই।বিষয়বস্তুকে মুখস্থনির্ভর না রেখে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এ বছরের পাঠ্যক্রমে, পরিবর্তন এসেছে ইতিহাসের বেশ কিছু বিষয়েও, জোর দেয়া হচ্ছে বিশ্লেষণ ও দক্ষতাভিত্তিক শেখায়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Sharing is caring!