২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চলতি বছরেই চূড়ান্ত করতে চায় বাংলাদেশ: হাইকমিশনার

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ণ
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চলতি বছরেই চূড়ান্ত করতে চায় বাংলাদেশ: হাইকমিশনার

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual7 Ad Code

মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলোচিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ার স্থানীয় একটি বার্তা সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দেন কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।

হাইকমিশনার জানান, কয়েক বছর আগে এই চুক্তির আলোচনা শুরু হলেও ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফরের পর এতে গতি আসে। চুক্তির বিভিন্ন শর্তাবলী নিয়ে দুই দেশ ইতিমধ্যে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আলোচনাটি বেশ জটিল হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে, তবে আমাদের লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ে এটি সম্পন্ন করা।’

Manual5 Ad Code

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩.৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৫.১ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।

Manual5 Ad Code

দুই দেশের প্রধান বাণিজ্য খাতসমূহের মধ্যে রয়েছে; মালয়েশিয়া থেকে রপ্তানি পেট্রোলিয়াম পণ্য, পাম অয়েল, রাসায়নিক দ্রব্য এবং বাংলাদেশ থেকে আমদানি তৈরি পোশাক (টেক্সটাইল), জুতা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে সাধারণত শ্রমিক রপ্তানির নিরিখে দেখা হলেও সেই ভাবমূর্তি পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু শ্রমিক পাঠানোর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। মানবসম্পদ খাতে আমাদের সম্পর্ক সন্তোষজনক হলেও আমরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং শিক্ষার মতো আধুনিক খাতগুলোতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।’

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যা দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। এছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষকরাও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

২০২৪ সালের অক্টোবরে আনোয়ার ইব্রাহিমের ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালয়েশিয়া সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন চৌধুরী।

Manual2 Ad Code

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার যে-ই গঠন করুক না কেন মালয়েশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বাংলাদেশের অন্যতম পররাষ্ট্র নীতি। দুই দেশের ৫৪ বছরের এই অটুট বন্ধুত্ব আগামীতে আরও বহুমুখী ও অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code