৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মালয়েশিয়া জাল নথি ব্যবহার করায় বাংলাদেশি পরিচালকের ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া জাল নথি ব্যবহার করায় বাংলাদেশি পরিচালকের ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

মালয়েশিয়ায় জাল নথি ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের বৈধ করার চেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদ জসিম (৪৩) নামে এক বাংলাদেশি কোম্পানি পরিচালককে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে।

জাল নথি ব্যবহার করার অভিযোগে ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুরের একটি দায়রা আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক সুজানা হুসিনের আদালতে জসিম নিজের দোষ স্বীকার করলে আদালত তাকে এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, জরিমানা অনাদায়ে আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

Manual6 Ad Code

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ জসিম তার প্রতিষ্ঠান ‘নিসা রিসর্সেস এসডিএন বিএইচডি’ এর মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকারের আরটিকে ২.০ প্রোগ্রামের আওতায় ১৪ জন বিদেশি কর্মীকে বৈধ করার আবেদন করেছিলেন। এই আবেদনের স্বপক্ষে তিনি একটি ভুয়া লেটার অফ অ্যাওয়ার্ড বা কার্যাদেশ জমা দেন।

Manual1 Ad Code

নথিতে দাবি করা হয়েছিল, জালান তুন রাজাক এলাকার একটি কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্পের সংস্কার কাজের জন্য তিনি ওই কার্যাদেশ পেয়েছেন। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওরিয়ন ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন থেকে ইস্যু করা সেই নথিটি ছিল সম্পূর্ণ জাল। বাস্তবে ওই প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির সাথে নিসা রিসোর্সেসের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনও হয়নি।

শুনানি চলাকালীন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর নিদজুওয়ান আবদ লতিফ বলেন, আসামি জাল নথি ব্যবহার করে অভিবাসন বিভাগ এবং সিআইডিবি’র মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে প্রতারণা করেছেন। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের এভাবে বৈধ করার চেষ্টা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারিথ এমিয়ার ফারহান মোর্নি লঘু শাস্তির আবেদন জানিয়ে বলেন, তার মক্কেল তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। সমন পেয়ে গত নভেম্বরে তিনি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের কারণে জসিম বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ বলেও আদালতকে জানানো হয়।

২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পুত্রজায়ার অভিবাসন বিভাগে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল। আসামি দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারায় অভিযুক্ত হন। বিচারক আশা প্রকাশ করেন, এই কঠোর জরিমানা আসামিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকতে শিক্ষা দেবে।

Manual5 Ad Code

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সরকারের আরটিকে ২.০ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট শর্তে অবৈধ অভিবাসীদের নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার অধীনে বৈধভাবে কাজের সুযোগ দেয়া। জসিমের এই জালিয়াতির কারণে তার আবেদন করা ১৪ জন কর্মীর মধ্যে ১২ জনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code