২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তেলের জন্যই এই রক্তপাত: মার্কিন কংগ্রেসম্যান

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
তেলের জন্যই এই রক্তপাত: মার্কিন কংগ্রেসম্যান

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান জেক অচিনক্লস বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনার সঙ্গে মাদক পাচার দমনের কোনো সম্পর্ক নেই।
স্ত্রীর সঙ্গে নিকোলাস মাদুরো।

Manual8 Ad Code

স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাসাচুসেটসের এই কংগ্রেসম্যান বলেন, ‘এটা তেলের জন্য রক্তপাত। এর সঙ্গে মাদক পাচারের কোনো সম্পর্ক নেই।

মাদকের বেশিরভাগ চালাইন ইউরোপে যাচ্ছে, আর কোকেন সেই মাদক নয় যা আমেরিকানদের হত্যা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর জন্য দায়ী ফেন্টানিল, যা চীন থেকে আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পুরো বিষয়টির মূল্য লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত রয়েছে।

ওয়াশিংটননের দাবি, মাদুরো, তার স্ত্রী এবং ভেনেজুয়েলার কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি ‘নারকো-সন্ত্রাসবাদ’, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তবে কারাকাস বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

Manual5 Ad Code

অচিনক্লস বলেন, ‘শেভরনের (মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি) কাছে ওই তেলক্ষেত্র ব্যবহারের চুক্তি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অনুমতিও আছে। এই প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল কোম্পানিগুলোর কাছে দেয়া তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছেন।’

Manual6 Ad Code

মাদুরোকে আটকের পর শনিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং দেশটির ভেঙে পড়া তেল শিল্প পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আহ্বান জানাবে।

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোলিওস দে ভেনেজুয়েলা (পিডিভিএসএ) দেশটির তেল খাত নিয়ন্ত্রণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিশেষ ছাড়ের আওতায় হিউস্টনভিত্তিক শেভরনই একমাত্র মার্কিন কোম্পানি, যারা ভেনেজুয়েলায় তেল উত্তোলন করছে এবং উৎপাদিত তেলের একটি অংশ পিডিভিএসএকে দেয়।

ভেনেজুয়েলার তেল মজুত বিশ্বের সবচেয়ে বড় হলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদিত হচ্ছে না। দেশটির তেলের বড় একটি অংশ বর্তমানে চীনে বিক্রি হচ্ছে।

কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকি-ধামকির পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

Manual6 Ad Code

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদন মতে, ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দেন মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে মার্কিন বাহিনী।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code