৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

আজ “বিশ্ব শিক্ষক দিবস” ​৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস: শিক্ষকতাই শ্রেষ্ঠ পেশা , শিক্ষকরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৫, ০৬:৩৮ অপরাহ্ণ
আজ “বিশ্ব শিক্ষক দিবস” ​৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস: শিক্ষকতাই শ্রেষ্ঠ পেশা , শিক্ষকরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি।

Manual3 Ad Code

প্রতি বছর ৫ অক্টোবর, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে পালন করি বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক এই দিনটির সূচনা হয়, যা মূলত শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব এবং মর্যাদা বিষয়ক ১৯৬৬ সালের আইএলও/ইউনেস্কো সুপারিশমালা গৃহীত হওয়ার দিনটিকে স্মরণ করে।

Manual6 Ad Code

এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সেই মানুষ গড়ার কারিগরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশ্বজনীন অঙ্গীকার—যাঁরা নিরলস প্রচেষ্টায় জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে আত্মনিয়োগ করেন। ​শিক্ষকের ভূমিকা: সমাজের ভিত্তিপ্রস্তর ​শিক্ষকরা শুধু জ্ঞানের বিতরণকারী নন, তাঁরা হলেন একটি সমাজের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তিপ্রস্তর।

একটি শিশু যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখে, তখন তার প্রাথমিক শিক্ষক তার পরিবার। কিন্তু বৃহত্তর পৃথিবীতে তার প্রবেশে যিনি আলো হাতে পথ দেখান, তিনি হলেন শিক্ষক। শিক্ষকতা একটি পেশা মাত্র নয়, এটি একটি মহৎ ব্রত। তাঁরা শিক্ষার্থীর মননে জ্ঞান, মূল্যবোধ, ধৈর্য এবং সৃজনশীলতার বীজ বপন করেন। তাঁদের হাত ধরেই তৈরি হয় ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিল্পী, গবেষক এবং সর্বোপরি একজন ভালো মানুষ। ​আমরা প্রায়শই বলি, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।

Manual5 Ad Code

কিন্তু এই মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী ও সচল রাখার কাজটি করেন শিক্ষকরাই। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা তাদের পেশার প্রতি অবিচল থাকেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাকে চিনতে সাহায্য করেন। একজন শিক্ষক ক্লাসরুমের চার দেয়ালের মধ্যে যে প্রভাব ফেলেন, তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি সমাজকে প্রভাবিত করে। ​

সময়ের দাবি: শিক্ষকের মর্যাদা ও সুযোগ বৃদ্ধি শিক্ষকরা আজও সমাজে প্রাপ্য সম্মান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। অনেক সময় তাঁদের অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়। ​মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, সর্বাগ্রে শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত বেতন-ভাতা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

শিক্ষকতা পেশা যেন আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, সেজন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। শিক্ষকের সম্মান রক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁদের নেতৃত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষকদের কেবল অতীতের গৌরবময় স্মৃতির মধ্যেই আবদ্ধ না রেখে, তাঁদের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা

এই দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। ​কৃতজ্ঞতা ও অঙ্গীকার: ​বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমরা আমাদের জীবনের সকল শিক্ষকদের প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার হোক এই যে, আমরা শিক্ষক সমাজকে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেব এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। ​

Manual6 Ad Code

আসুন, এই বিশেষ দিনে আমরা আমাদের শিক্ষকদের স্মরণ করি, যাঁরা আমাদের জীবনকে আলোকিত করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ, ধৈর্য ও অমূল্য অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে আমরা যেন ভবিষ্যতের প্রজন্মকেও বলি—শিক্ষকতাই শ্রেষ্ঠ পেশা, শিক্ষকরাই জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code