২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত

Manual8 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, ওই নারী একজন ‘সহিংস দাঙ্গাবাজ’ ছিলেন এবং ঘটনার সময় তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট–আইসিই’র এজেন্টদের গাড়িচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

নিহত নারীর স্মরণে তুষারের ওপর ফুল ও মোমবাতি দিয়ে একটি অস্থায়ী স্মরণবেদি তৈরি করা হয়।

স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আইসের এক কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সি রেনি নিকোল গুড নামের ওই নারী নিহত হন।

Manual2 Ad Code

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, ওই নারী গাড়ি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষায় বাধ্য হয়ে গুলি ছোড়েন কর্মকর্তা।

Manual3 Ad Code

তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ। ঘটনার দায় সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপান তিনি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে মিনেসোটার সিনেটর টিনা স্মিথ লেখেন, ‘এ খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিরাপত্তার স্বার্থে আইস কর্মকর্তাদের মিনেসোটা ছাড়ার আহ্বান জানান তিনি।

Manual6 Ad Code

একই সুরে কথা বলেন মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে। সংবাদ সম্মেলনে আইসের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তবে এক বিবৃতিতে মেয়রের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস। একইসঙ্গে, তাকে ‘দুষ্টু ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করা হয়।

হোয়াইট হাউসের দাবি, আইস কর্মকর্তারা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেখানে অবস্থান করছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান ক্রিস্টি নোম বলেন, মিনেসোটা ও মিনিয়াপোলিসের ডেমোক্র্যাট নেতারা ফেডারেল আইন প্রয়োগে ব্যর্থ।

Manual2 Ad Code

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অপরাধীদের রক্ষা করছে বলেই সেখানে ফেডারেল অভিযান চালাতে হচ্ছে। নিহত নারীকে ‘পেশাদার উসকানিদাতা’ বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ঘটনার পরপরই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারী অস্ত্রধারী ফেডারেল সদস্যরা গ্যাস মাস্ক পরে অবস্থান নেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শহর থেকে আইসিই এজেন্টদের চলে যাওয়ার দাবি তুলেছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মূল সমাবেশটি গুলির স্থানে স্থাপিত অস্থায়ী স্মরণসভা কেন্দ্রকে ঘিরে হচ্ছে। সেখানে তুষারের ওপর ফুল ও মোমবাতি দিয়ে একটি অস্থায়ী স্মরণবেদি তৈরি করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন এবং বক্তব্য রাখেন।এরমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রের আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code