২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ঢাকায় এসে হাত মেলালেও পাকিস্তানকে কঠোর সতর্কবার্তা জয়শঙ্করের

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ
ঢাকায় এসে হাত মেলালেও পাকিস্তানকে কঠোর সতর্কবার্তা জয়শঙ্করের

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এই সফরে তাদের দু’জনের সাক্ষাৎ হয়। সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতে একে অপরের সঙ্গে করমর্দন এবং কুশল বিনিময় করেন তারা, যা উঠে আসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামেও। তবে এর দু’দিনের মাথায় ইসলামাবাদকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ অভিহিত করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতীয় মন্ত্রী। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

মাদ্রাজের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তৃতাকালে জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘আমাদের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয় তা কেউ বলে দিতে পারে না’।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি’র প্রতিবেদন মতে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর দিকে ইঙ্গিত করেই মূলত তিনি এ কথা বলেছেন।

Manual5 Ad Code

জয়শঙ্কর বলেন, ‘আপনার খারাপ প্রতিবেশীও থাকতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের আছে। আর যখন আপনার খারাপ প্রতিবেশী থাকে, যদি কোনো দেশ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে, অবিচলভাবে এবং অনুতপ্ত না হয়ে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাবে; তাহলে আমাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আছে। আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।’

তিনি আরও বলেন, আমরা কীভাবে নিজ অধিকার প্রয়োগ করব তা আমাদের ওপর নির্ভর করে। আমাদের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয় তা কেউ বলে দিতে পারে না। আত্মরক্ষার জন্য আমাদের যা যা করার দরকার আমরা তাই করব।

১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সাথে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর, যা পহেলগাম হামলার পর স্থগিত করা হয়েছিল।

Manual4 Ad Code

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, “অনেক বছর আগে আমরা পানি-বণ্টন ব্যবস্থায় একমত হয়েছিলাম। কিন্তু যদি আপনার (পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে) দশকের পর দশক ধরে সন্ত্রাসবাদ থাকে, তাহলে কোনো ভালো প্রতিবেশীত্ব থাকে না এবং এর সুবিধাও পাওয়া যায় না। তখন আপনি বলতে পারবেন না যে, ‘দয়া করে আমার সাথে পানি ভাগ করে নিন, কিন্তু আমি আপনার সাথে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাব’।”

ভারত ‘বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেশী’ দিয়ে ‘আশীর্বাদপ্রাপ্ত’ বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। বলেন, যদি আপনার এমন কোন প্রতিবেশী থাকে যে আপনার প্রতি ভালো অথবা অন্তত আপনার জন্য ক্ষতিকর নয়; তাহলে আপনার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো সদয় হওয়া, সেই প্রতিবেশীকে সাহায্য করা এবং একটি দেশ হিসেবে আমরা এটাই করি।

Manual5 Ad Code

এর আগে, ‘ভারতের বেশিরভাগ সমস্যা’ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে উদ্ভূত বলে গত মাসে মন্তব্য করেছিলেন এস জয়শঙ্কর।

Manual1 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code