৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কমতি নেই, প্রয়োজনে জোট: আখতার হোসেন।

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১২, ২০২৫, ০৯:৫৫ অপরাহ্ণ

Manual1 Ad Code

এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কমতি নেই, প্রয়োজনে জোট: আখতার হোসেন।

লোকমান ফারুক: রংপুর।

Manual2 Ad Code

দুপুরের মেঘলা আকাশের নিচে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পারুল ইউনিয়নের একটি সরু গ্রামীণ সড়ক ধরে, ধীরে-ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজন হাত নাড়ছিল, কেউ হাসছিল, কেউ আবার চোখে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে ছিল এই নতুন রাজনীতিকের দিকে। তার কণ্ঠে তখন দৃঢ় আত্মবিশ্বাস—”আমরা এককভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, তবে দেশের প্রয়োজনে জোটও অসম্ভব নয়।”

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে গণসংযোগকালে তিনি-এ কথাগুলো বলছিলেন। মাটির রাস্তা ও রাস্তা ঘেঁষে জড়ো হওয়া মানুষের সামনে আখতার হোসেন যেন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি কিছু বলছিলেন—বলছিলেন পরিবর্তনের স্বপ্নের ভাষা।

তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের সক্ষমতায় দাঁড়াতে শিখেছি। নাগরিক পার্টি এখন আর কাউকে অনুসরণ করে না—নিজেদের জায়গা থেকে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছি। তবে, জাতীয় স্বার্থে যদি জোটের প্রয়োজন হয়, আমরা সেই আলোচনাতেও উন্মুক্ত।”

তার বক্তব্যে মাঝে মাঝে রাজনৈতিক কূটনীতি আর বাস্তবতার মিশ্রণ দেখা যাচ্ছিল। “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে, বললেন তিনি, ‘তবে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা প্রস্তুত আছি—এককভাবে কিংবা জোটগতভাবে, যেভাবেই হোক, নির্বাচনে অংশ নেব।

মাঠের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পরের প্রশ্নটি—আগামী নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে দলের অবস্থান কী? আখতার হোসেন একটু থেমে জবাব দেন,”জুলাই সনদের মূল বিষয়টা হচ্ছে এর বাস্তবায়নের আদেশ। সরকার যদি এই আদেশ সঠিকভাবে জারি করে, তাহলে বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থারও সমাধান হবে। কিন্তু যদি আদেশটাই অস্পষ্ট থাকে, তাহলে গণভোট কিংবা নির্বাচন—কোনোটাই টেকসই হবে না।

তার কথাগুলো শুনে ভিড়ের মধ্যে একজন বয়স্ক কৃষক চুপিচুপি বলেন, ‘আমরা এমন নেতাই চাই—যে স্পষ্ট কথা বলেন।’ সেই একটিমাত্র বাক্য যেন সারাদেশের সাধারণ মানুষের ভাবনাকে প্রতিনিধিত্ব করছিল।

Manual2 Ad Code

আখতার হোসেন বললেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজানোর স্বপ্ন দেখি। মানুষ যে সেবাগুলো পাওয়ার কথা, তা তারা পায় না—আমরা সেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চাই। নাগরিক মর্যাদা—এটাই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

তার চোখে তখন এক ধরনের দৃঢ়তা—রাজনীতির ক্লান্ত মাঠেও তিনি যেন খুঁজছেন নতুন সূর্যের আলো।

Manual1 Ad Code

বিকেলের আলো নরম হয়ে আসছিল, মাঠে ছড়িয়ে পড়ছিল ধুলোর কুয়াশা। মানুষ ধীরে ধীরে ছত্রভঙ্গ হতে শুরু করলেও কথাগুলো থেকে যাচ্ছিল বাতাসে—

“আমরা যদি ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে না পারি, তাহলে এই দেশের ভবিষ্যৎও অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।

Manual7 Ad Code

আখতার হোসেনের সেই উচ্চারণে ছিল একসঙ্গে আশার সুর ও এক অদৃশ্য নৈতিক প্রশ্ন—এই দেশ কি আরেকবার নতুনভাবে শুরু করতে পারবে?

বিকেলের ম্লান আলোয় তিনি যখন বাড়িমুখী, তখন মনে হচ্ছিল, এ কেবল একজন রাজনীতিকের প্রচারণা নয়—একজন মানুষের বিশ্বাস, যে এখনো মনে করে পরিবর্তন সম্ভব, যদি মানুষ তার পাশে দাঁড়ায়।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code