২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শ্রম আইনের নামে সমঝোতা হোটেল–রেস্তোরাঁয় নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন কেন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্রম আইনের নামে সমঝোতা হোটেল–রেস্তোরাঁয় নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন কেন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক

Manual4 Ad Code

শ্রম আইনের নামে সমঝোতা
হোটেল–রেস্তোরাঁয় নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন কেন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক?

লোকমান ফারুক রংপুর: রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ছয়টি শহরে, ছয়টি সরকারি দপ্তরে জমা পড়ে একটি স্মারকলিপি। ভাষা এক, অভিযোগ এক-হোটেল-রেস্তোরাঁয় শ্রম আইন নেই, নিম্নতম মজুরি কাগজে বন্দী। স্মারকলিপির প্রাপক ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ছয়জন উপ-মহাপরিদর্শক। সেদিন কেউ স্মারকলিপি ফেরত দেননি। কিন্তু তার পর, কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের-রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কার্যালয় সমূহ ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।

কর্মবিরতি স্থগিত, প্রশ্ন স্থগিত নয়

১৪ জানুয়ারি ২০২৫-এ দেশব্যাপী হোটেল–রেস্তোরাঁ শ্রমিকদের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু তার আগেই ঢাকায় ঘটে একটি ঘটনা যা পরবর্তীতে পুরো আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়।
শ্রম আইন ও নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং মালিকপক্ষের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

Manual8 Ad Code

সরকার ও পরিদর্শন অধিদপ্তর পরিদর্শনের আশ্বাস দেয়। এই সিদ্ধান্তের কথা কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হলো , পরিদর্শন কোথায়? ঢাকায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সক্রিয় কিন্তু বিভাগে নীরবতা। ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঢাকার কিছু হোটেল–রেস্তোরাঁ পরিদর্শনের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে, কোনো পরিদর্শনের ঘোষণা নেই। কোনো নোটিশ নেই, মামলা নেই; আইন কি এখানে ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব!

এই প্রতিবেদক ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ছয়জন উপ-মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত প্রশ্নমালা পাঠান—
পরিদর্শন হয়েছে কি না, হলে কোথায়, কী ফলাফল।
আজও’ কোনো লিখিত উত্তর নেই। কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা নেই, ঢাকায় রাষ্ট্র সক্রিয়; বিভাগীয় শহরগুলোতে যেন ছুটিতে।

মাঠের বাস্তবতা বদলায়নি

এই নীরবতার মধ্যেই প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলা শহরের হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে। কর্মবিরতি স্থগিত হলেও বাস্তবতা বদলায়নি। রংপুরের এক বাবুর্চি বলেন-“কর্মবিরতি উঠেছে, কিন্তু আমাদের কাজের সময় বদলায়নি।” রাজশাহীর এক ওয়েটারের ভাষায়-“ঢাকায় পরিদর্শন হলে কী হবে, এখানে তো কেউ আসে না।”বগুড়ার এক সহকারী শ্রমিক জানান-“মালিক বলেছে, সরকার তো কিছুই করেনি।”

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী—৮০ শতাংশের বেশি হোটেল–রেস্তোরাঁয় দৈনিক ১০–১২ ঘণ্টা কাজ,
ওভারটাইম নেই, নিয়োগপত্র নেই, ছুটি ও নিম্নতম মজুরি কাগুজে অধিকার। যেন ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এই অঞ্চলকে ছুঁয়েই দেখেনি।

Manual8 Ad Code

মালিকপক্ষের আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে

Manual2 Ad Code

মালিকপক্ষের কয়েকজন নেতার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভয়ের অভাব। রাজশাহী বিভাগের এক মালিক সমিতির নেতা বলেন”ঢাকায় চাপ বেশি। বিভাগে তেমন কিছু হয় না।” রংপুরের এক প্রভাবশালী রেস্তোরাঁ মালিকের বক্তব্য—”পরিদর্শন হলে কাগজ ঠিক করা আমাদের জন্য সমস্যা না।”এই আত্মবিশ্বাসের পেছনের কারণ কী?

মাসোহারা’র অভিযোগ: প্রকাশ্যে না বলা চুক্তি

শ্রমিক নেতা, ইউনিয়ন প্রতিনিধি এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্যে উঠে আসে একটি গুরুতর অভিযোগ—বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে অনেক হোটেল_রেস্তোরাঁ মালিক নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকদের ‘মাসোহারা’ প্রদান করেন। এই অভিযোগ অনুযায়ী_পরিদর্শন আগে থেকে জানা থাকে, হাজিরা ও মজুরি রেজিস্টার সাজানোর সময় পাওয়া যায়। গুরুতর লঙ্ঘন ‘সাধারণ ত্রুটি’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এ কারণেই, শ্রমিক নেতাদের ভাষায়_”পরিদর্শকরা ধীরগতির, টালবাহানাপূর্ণ এবং কার্যত নিরুত্তর।” এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শকদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ স্পষ্ট। নিম্নতম মজুরি, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম

….সবই বাধ্যতামূলক।
কিন্তু বাস্তবে… আইন মানলে মুনাফার অংশ কমে মালিকের, আইন না মানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শ্রমিক।
আর নীরব থাকলে প্রশ্ন ওঠে পরিদর্শন ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে।

শেষ প্রশ্ন, যা থেকে যায়

কর্মবিরতি স্থগিত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন স্থগিত হয়নি!ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সুফল কেন ঢাকার বাইরে গেল না? বিভাগীয় শহরগুলো কি রাষ্ট্রের মানচিত্রে নেই?
পরিদর্শন ব্যবস্থার এই নীরবতা কি অদক্ষতা, নাকি অঘোষিত সমঝোতা? শ্রমিকরা আজও রান্নাঘরে কাজ করছেন_তেল, ধোঁয়া আর দীর্ঘ সময়ের ভেতর। আর শ্রম আইন? তা এখনো শুধু কাগজেই।
প্রশ্ন থেকেই যায়_এই আইন কাদের রক্ষা করছে?

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code