১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৩রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দুই শিক্ষক চাকরিচ্যুত আন্দোলনের মুখে বন্ধ এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
দুই শিক্ষক চাকরিচ্যুত আন্দোলনের মুখে বন্ধ এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual6 Ad Code

রাজধানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে (ইউএপি) চলমান উত্তেজনার মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

Manual7 Ad Code

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া অনুকূল হয়ে পড়েছে। বিষয়টি সমাধান ও দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস স্থগিত থাকবে।

Manual1 Ad Code

এর আগে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।

হিজাব ও নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য, মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

Manual7 Ad Code

একইসঙ্গে আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ওই বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকেও বহিষ্কার করা হয়। দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

গত ১৮ জানুয়ারি দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, হিজাব ও নিকাব পরার কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ, ইসলামের বিধান নিয়ে কটূক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে।

এছাড়া ক্লাস চলাকালে নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তারা।

এদিকে শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও এ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে-ইউএপির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

সংগঠনটি গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, শুধু চিন্তা ও আদর্শের পার্থক্য থাকায় সুপরিকল্পিতভাবে ও নানা অজুহাতে শিক্ষকের বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতাকে দঙ্গলবাজির মাধ্যমে খর্ব করা হয়েছে। তা ছাড়া শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার দাবি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নিন্দনীয় নজির স্থাপন করেছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code