২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে: আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবন দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে: আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

মিয়ানমার মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল এবং তাদের জীবনকে ‘দুঃস্বপ্নে’ পরিণত করেছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার ঐতিহাসিক মামলার শুনানিতে বিচারকদের সামনে এই অভিযোগ তুলে ধরেছে গাম্বিয়া। খবর রয়টার্সের।

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগের শুনানি শুরু হয়।

গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই আইসিজে-তে পুরোপুরি শুনানি হওয়া প্রথম গণহত্যার মামলা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার রায় কেবল মিয়ানমারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আদালতের বিচারকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ছিল সাধারণ মানুষ, যারা শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের ধ্বংস করার জন্য লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।

মিয়ানমার তাদের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে, বরং তাদের জীবনকে এমন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে, যেখানে অকল্পনীয় সহিংসতা ও ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে।’

Manual3 Ad Code

পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে ২০১৯ সালে ‘বিশ্ব আদালত’ খ্যাত আইসিজে-তে এই মামলাটি দায়ের করে। এতে অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে এক ভয়াবহ অভিযান শুরু করে। এর মুখে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

Manual4 Ad Code

সে সময় তারা হত্যা, গণধর্ষণ এবং অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেছিল। জাতিসংঘের একটি সত্যানুসন্ধান মিশন ওই সামরিক অভিযানকে “গণহত্যামূলক কাজ” হিসেবে অভিহিত করেছিল।

তবে মিয়ানমার বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, ২০১৭ সালের ওই অভিযান ছিল মুসলিম জঙ্গিদের হামলার জবাবে একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান।

২০১৯ সালের প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার অভিযোগকে “অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

Manual3 Ad Code

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে শুনানির আগে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীরা জানান, তারা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মামলা থেকে ন্যায়বিচার আশা করছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার ৫২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী ইউসুফ আলী রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা একটি ইতিবাচক ফলের আশা করছি, যা বিশ্বকে জানাবে যে মিয়ানমার গণহত্যা চালিয়েছে। আমরা এর শিকার এবং আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য।

গাম্বিয়া আরও তিন দিন আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। এরপর শুক্রবার মিয়ানমার এসব অভিযোগের জবাব দেয়ার সুযোগ পাবে।

এরপর আদালত রুদ্ধদ্বার কক্ষে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন। কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে সরাসরি রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আইসিজে-তে এই শুনানি তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা চলছে। বর্তমানে দেশটিতে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাতিসংঘ ও পশ্চিমা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অবাধ বা সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছে।

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code