২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী-এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ছয়

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ণ
আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী-এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ছয়

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী ও এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। এতে গত কয়েকদিনের এই সংঘাতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। আহত ছাড়িয়েছে দুই শতাধিক।

Manual8 Ad Code

এর মধ্যেই শেখ মাকসুদ এলাকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সিরীয় বাহিনী। আত্মসমর্পণের পর এসডিএফ যোদ্ধাদের বাসে করে অন্য জায়গায় পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এসডিএফ।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

Manual4 Ad Code

উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। যার সূত্রপাত এসডিএফ-এর রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর।

তিনদিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর সংঘাত বন্ধে সম্মত হয় সিরীয় সরকার।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দেয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা প্রশাসন। সেই সঙ্গে ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি মেনে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায় এসডিএফ। এরপরই ফের হামলা জোরদার করে সরকারি বাহিনী।

সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এসডিএফের হামলায় শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যদিও বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স-এসডিএফ।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জানুয়ারি) আলেপ্পোয় ড্রোন হামলা চালায় সংগঠনটি। একটি ড্রোন আলেপ্পোর গভর্নরেট ভবনে আঘাত হানে। সিরীয় সেনাবাহিনী বলছে, এসডিএফ ইরানে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

এদিকে শেখ মাকসুদ এলাকায় সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় সিরীয় বাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল তিনটা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। সরকারি বাহিনী জানায়, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে।

সরকারি সূত্র বলছে, শেখ মাকসুদে বহু এসডিএফ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে। তাদের বাসে করে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবকাহ শহরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বেসামরিক পরিবারকেও এলাকা ছাড়তে দেয়া হয়েছে।

তবে এসডিএফ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, বাসে করে যাদের নেয়া হয়েছে তারা যোদ্ধা নন। তারা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষ। এখনো কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই চলছে বলে জানাচ্ছে সরকার।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সহিংসতা সমন্বয় চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর সংলাপ সহজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

Manual5 Ad Code

এর আগে মার্চে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তির চুক্তি হয়েছিল। সরকার বলছে, সেই চুক্তির শর্ত এখনো মানা হয়নি।

আলেপ্পোর গভর্নরের দাবি, এসডিএফ চুক্তি অনুযায়ী এলাকা ছাড়েনি। বরং ওই এলাকাকে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code