স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
মোনার্ক জাতের প্রজাপতির বৈচিত্রময় জীবনরহস্য ও গতিপথ উন্মোচনে নতুন এক পদ্ধতি অবলম্বন করতে যাচ্ছেন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী। এই পদ্ধতিতে প্রজাপতির পাখায় ট্র্যাকিং ডিভাইস বসিয়ে অনুসরণ করা হবে গতিপথ।
সেলুলার প্রযুক্তির এই ছোট ট্যাগগুলো মানচিত্রে প্রজাপতি চলাচলের সুনির্দিষ্ট পথ ফুটিয়ে তুলতে পারে। যার মাধ্যমে তাদের অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
মোনার্ক জাতের প্রজাপতির বৈচিত্রময় জীবনরহস্য ও গতিপথ উন্মোচনে নতুন এক পদ্ধতি অবলম্বন করতে যাচ্ছেন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী।
হলদে ডানার কালো ডোরাকাটা দাগ বিশিষ্ট বড় জাতের প্রজাপতি মোনার্ক। যাদের গতিপথ রহস্যে ঘেরা। শীতকাল কাটাতে তারা পাড়ি দেয় হাজার হাজার মাইল পথ।
কানাডা ও উত্তর আমেরিকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে সুদূর লাতিন আমেরিকার দেশ ম্যাক্সিকোয় জায়গা করে নেয়। যা কোনো পোকামাকড়ের দীর্ঘতম অভিবাসন প্রক্রিয়া। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তারা কোথায় যায়, কোন কোন পথ ব্যবহার করে এবং কিভাবেই বা স্থানীয় প্রজাতি থেকে নিজেদের আলাদা করে রাখে তা ঘিরে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন।
সেই রহস্যের জট খুলতে গবেষণা করে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন এবং মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। মোনার্ক জাতের প্রজাপতির পিঠে ক্ষুদ্র ও হালকা ওজনের রেডিও ট্যাগ বসাতে যাচ্ছেন গবেষকরা। এসব ডিভাইস পোকামাকড়ের ভ্রমনের সময় অবস্থানের তথ্য ও গতিবিধি নজরদারির সুযোগ করে দেবে।
গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. শন বার্চার বলেন, আমার দক্ষতার ক্ষেত্র ছিল প্রজাপতি নিয়ে গবেষণা। আর ইসলার দক্ষতা ছিল প্রযুক্তি, ড্রোন ও এআইয়ের মতো বিষয়। আমরা ভাবছিলাম দুজন মিলে কী করা যায়।
একই সময়ে বাজারে নতুন এক প্রযুক্তি আসে, যেখানে খুব ছোট ট্যাগ প্রজাপতির গায়ে লাগিয়ে তাদের গতিপথ অনুসরণ করা যায়। এই প্রযুক্তিটি আমাদের দুজনের আগ্রহের মধ্যে পড়ে। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই এটি ব্যবহার করে আমরা একটি প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।
ট্যাগগুলো সেলুলার ট্র্যাকিং টেকনোলজি দ্বারা তৈরি। এতে ব্লুটুথ সিগনাল ও ছোট সৌর প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যাটারি ছাড়াই তথ্য পাঠাতে সক্ষম। আশপাশে থাকা যেকোনো রিসিভার এমনকি স্মার্টফোনও এই সিগনাল শনাক্ত করতে পারে। কোম্পানির মতে, এই প্রযুক্তির ফলে ট্যাগগুলো প্রজাপতির পুরো জীবনকালজুড়ে কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম।
ট্যাগ থেকে পাওয়া তথ্য ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্রে দেখানো হয়, যেখানে প্রজাপতিগুলোর চলাচলের সুনির্দিষ্ট পথ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এতে মনার্ক প্রজাপতিগুলো কীভাবে পথ খুঁজে নেয়, কোথায় থামে এবং পরিবেশগত উপাদান অভিবাসনে কী প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।
গবেষকদের মতে, একই প্রযুক্তি শিগগিরই ড্রাগনফ্লাই ও পঙ্গপালসহ অন্যান্য পোকামাকড়ের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা পরিবেশগত গবেষণার পাশাপাশি বিধ্বংসী পোকা মাকড়ের আগমন শনাক্তের মাধ্যমে মানবিক সহায়তাতেও কাজে আসতে পারে।
Sharing is caring!