২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

প্রস্তুত হচ্ছে আর্টেমিস-২, আগামী মাসে চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে নাসা!

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ণ
প্রস্তুত হচ্ছে আর্টেমিস-২, আগামী মাসে চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে নাসা!

Manual1 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদে মনুষ্যবাহী মিশন চালাতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেই চাঁদের উদ্দেশে মহকাশযান উৎক্ষেপণ করতে পারে সংস্থাটি। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুত হচ্ছে মহাকাশযান আর্টেমিস-২। খবর বিবিসির।

অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় পর আবারও চাঁদে মনুষ্যবাহী মিশন চালাতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। নাসা তাদের বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) চন্দ্র রকেট ও ওরিয়ন স্পেস ক্যাপসুলকে ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং (ভিএবি) থেকে উৎক্ষেপণ প্যাডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

প্রায় ১০ দিনের মিশনে অংশ নেয়া নভোচারীরা মহাকাশের এমন গভীরে যাবেন, যেখানে আগে কখনো মানুষ যায়নি। এই মিশনের লক্ষ্য ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের অ্যাপোলো মিশনের পর প্রথমবারের মতো চাঁদের পৃষ্ঠে মানুষের অবতরণের পথ তৈরি করা।

Manual7 Ad Code

শনিবার নির্ধারিত চার মাইলের এই যাত্রা ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার-২-এ করে সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। উৎক্ষেপণ প্যাডে পৌঁছানোর পর প্রকৌশলীরা বিদ্যুৎ সংযোগ ও জ্বালানি সরবরাহ লাইন যুক্ত করাসহ নানা প্রস্তুতি শুরু করবেন।

জানুয়ারির শেষ দিকে নাসা একটি ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ চালাবে- অর্থাৎ উৎক্ষেপণের আগে রকেটে জ্বালানি ভরে পরীক্ষা চালানো হবে। এতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশোধনের জন্য এসএলএস ও ওরিয়নকে আবার ভিএবিতে ফিরিয়ে নেয়া হতে পারে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সবচেয়ে দ্রুত সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের তারিখ হতে পারে ৬ ফেব্রুয়ারি। তবে শুধু রকেট প্রস্তুত থাকলেই চলবে না—চাঁদের অবস্থানও ঠিক থাকতে হবে। সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট উৎক্ষেপণ সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

Manual7 Ad Code

বাস্তবে এর মানে হলো- প্রতি মাসের শুরুতে প্রায় এক সপ্তাহ এমন সময় থাকে, যখন রকেট সঠিক দিকে তাক করা যায়। এরপর টানা তিন সপ্তাহ কোনো উৎক্ষেপণ সুযোগ থাকে না। এর ফলে সম্ভাব্য উৎক্ষেপণের তারিখগুলো হলো- ৬, ৭, ৮, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১১ মার্চ কিংবা ১, ৩, ৪, ৫ ও ৬ এপ্রিল।

আর্টেমিস-২ মিশনের চার ক্রুর মধ্যে আছেন নাসার কমান্ডার রিড ভাইসমান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কখ। কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেনও দ্বিতীয় মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দলে থাকবেন। এই মিশনে প্রথমবারের মতো এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুলে মানুষ নিয়ে উড্ডয়ন করা হবে।

নিরাপদে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা পদ্ধতি পরীক্ষা করবেন। ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে তারা পৃথিবীর কক্ষপথে হাতে-কলমে ক্যাপসুল দিকনির্দেশনা ও সারিবদ্ধ করার অনুশীলন করবেন।

এরপর তারা চাঁদের আরও কয়েক হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে যাবেন, যেখানে ওরিয়নের জীবনধারণ ব্যবস্থা, ইঞ্জিন, বিদ্যুৎ ও নেভিগেশন সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে। নভোচারীরা নিজেরাই চিকিৎসাবিষয়ক পরীক্ষার অংশ হিসেবে কাজ করবেন এবং গভীর মহাকাশ থেকে তথ্য ও ছবি পাঠাবেন।

Manual8 Ad Code

তারা ওজনহীন পরিবেশে একটি ছোট কেবিনে কাজ করবেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের তুলনায় সেখানে বিকিরণের মাত্রা বেশি হবে, তবে তা নিরাপদ সীমার মধ্যেই থাকবে। পৃথিবীতে ফেরার সময় নভোচারীরা বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ঝাঁকুনিময় যাত্রার পর যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবেন।

এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে আর্টেমিস-৩ মিশনকে চাঁদে অবতরণের ভিত্তি তৈরি করা। নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস–৩–এর উৎক্ষেপণ ‘২০২৭ সালের আগে নয়’। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবে ২০২৮ সালের আগে তা সম্ভব নাও হতে পারে। চাঁদের পৃষ্ঠে নামার জন্য কোন মহাকাশযান ব্যবহার করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি হতে পারে স্পেসএক্সের স্টারশিপ ল্যান্ডার অথবা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের তৈরি কোনো যান।

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code