বিশেষ প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটির লংডু এলাকা এবং সমতল ও পাহাড়ি শহরগুলোতে সরিষা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতির মাঝে সোনালি সরিষার ফুল দুলছে।
শীতল হাওয়া এবং সরিষার মিষ্টি গন্ধ চারপাশে মনমোহন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এটি যেন এক ধরনের হলুদ উৎসবের মতো। স্থানীয় কৃষকরা পাহাড়ে সরিষা বাম্পার ফসলের সম্ভাবনায় মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সাহায্যে, কৃষকরা ধূমপায়ী তামাক চাষের পরিবর্তে সরিষা চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন। কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী এসব এলাকায় আগে নিম্নভূমিতে বুড়োদহন চাষ হতো এবং অধিকাংশ জমি ছিল ক্ষতিকর তামাকের আবাদে ব্যবহৃত। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে।
তামাকের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর সরিষা চাষে জমি ভরে উঠছে। কৃষকরা কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শের সঙ্গে সঙ্গে দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
এলাকার স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমন ধান কেটে ফেলার পর তারা জমি ছাড়াই সরিষা চাষ করছেন। এই স্বল্পমেয়াদী ফসল তোলার পর অন্য ফসলের চাষের সুযোগ রয়েছে। একই জমিতে বছরে তিন ফসলও চাষ করা সম্ভব।
তারা বলেন, “আগে আমি তামাক চাষ করতাম, যা শ্রমসাধ্য ছিল। এখন আমি সরিষা চাষ করি, সময় কম লাগে এবং লাভ বেশি।”
লংডু উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ৬৭ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। চাষকৃত জাতের মধ্যে রয়েছে: বাড়ি-১৪, ১৭, ১৮ এবং ২০।
বিশেষভাবে বীনা-৯ উল্লেখযোগ্য। উৎপাদন গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াসিফ রহমান বলেন, “আমরা কৃষকদের সরিষা চাষের জন্য উৎসাহিত করছি, যাতে খাদ্যতেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো যায়।
আমরা কৃষকদের উচ্চ মানের বীজ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়াও কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।”
কয়েক দিন আগে পর্যন্ত পাহাড়ের কৃষকরা ক্ষতিকর তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে ছিলেন।
এখন, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে, তারা তামাকের মতো ক্ষতিকর চাষ ত্যাগ করে পরিবেশবান্ধব সরিষা চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন।
এটি পাহাড়ি অর্থনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং পরিবেশও সুস্থ হয়েছে।
Sharing is caring!