৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাগামহীন জন্মহার: পাঁচমুখী ভয়াবহ সংকটে দক্ষিণ সীমান্ত

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লাগামহীন জন্মহার: পাঁচমুখী ভয়াবহ সংকটে দক্ষিণ সীমান্ত

Manual6 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি, (উখিয়া) কক্সবাজারঃ

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন অস্বাভাবিক হারে শিশু জন্ম নেওয়ায় পরিস্থিতি নতুন এক ভয়াবহতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, নিরাপত্তা ঝুঁকি, আর্থিক সংকট, নাগরিকত্ব সংকট ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা- এই পাঁচমুখী সমস্যার বলয় এখন দক্ষিণ সীমান্তকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

Manual8 Ad Code

ক্যাম্পে বসবাসকারী প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে দুই লাখের মতো শিশু বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নিয়েও এখনো কোনো নাগরিক পরিচয় পাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মহীনতা, অনিশ্চয়তা ও দাম্পত্য অবসরের কারণে রোহিঙ্গা পরিবারে সন্তানের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। অনেক পরিবারেই ৪ থেকে ৬ সন্তানের দেখা মিলছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সচেতনতা কর্মসূচি থাকলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ক্যাম্পে বিশাল দুর্যোগ সৃষ্টি করবে।

আইএসসিজির তথ্যমতে, রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতি বছর প্রতিশ্রুত অনুদানের প্রায় অর্ধেকই পাওয়া যায়। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়তায় ভয়াবহ ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে ক্যাম্পের বাইরে শ্রমবাজারে ঢুকে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।

এতে উত্তেজনা বাড়ছে, বাড়ছে সামাজিক দ্বন্দ্ব। অনুদান সংকট ও কাজের অভাবে ক্যাম্পের তরুণদের বড় অংশ বেকার। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ হতাশা তাদের অনেককে মানব পাচার, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Manual3 Ad Code

ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংঘাতও তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রায় দুই লাখ শিশুর কোনো নাগরিকত্ব নেই। বাংলাদেশ তাদের স্বীকৃতি দিতে পারে না, মিয়ানমারও তাদেরকে নাগরিক মানতে নারাজ। আন্তর্জাতিকভাবে এটি বড় মানবাধিকার সংকট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।

ক্যাম্প স্থাপনের পর উখিয়া-টেকনাফের বনভূমি ধ্বংস হয়েছে প্রায় ৬ হাজার একরের বেশি। বনজ সম্পদ লুট, ভূমি দখল, অবৈধ শ্রমবাজারে ঢুকে পড়া, এনজিও কার্যক্রমে অনিয়ম- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।

Manual4 Ad Code

ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন- নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, জমি-সম্পত্তি ফেরত, চলাচলের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সুবিধা এবং বৈষম্যহীন সমান অধিকার- এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নন।

সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চারটি দিককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে-

★ জন্মহার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ।

★ এনজিও কার্যক্রমে কঠোর তদারকি।

★ খাদ্য-চিকিৎসা সহায়তা বৃদ্ধি।

★ মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার।

Manual2 Ad Code

১৩ লাখ মানুষের বিশাল চাপ নিয়ে দক্ষিণ সীমান্ত ইতোমধ্যেই বিপজ্জনক এক মানবিক-নিরাপত্তা সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। লাগামহীন জন্মহার সেই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। এখনই সুপরিকল্পিত, শক্তিশালী ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে-যার প্রভাব পড়বে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code