বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের দুপুরটা ছিল অদ্ভুত শান্ত। নির্বাচন ভবনের কাঁচঘেরা করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই বোঝা যাচ্ছিল—ভেতরের নীরবতা আসলে আরেক ধরনের ব্যস্ততা। মাত্র কিছুক্ষণ আগেই কমনওয়েলথ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ।
বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে এসে তিনি থামলেন—কিন্তু তার কথার ভেতরের ইঙ্গিত বোঝা গেল খুব দ্রুতই। ”
সারাদেশকে রেড, ইয়েলো আর গ্রিন—এই তিন জোনে ভাগ করা হচ্ছে,” বললেন তিনি। কণ্ঠে কোনো নাটকীয়তা নেই, কিন্তু তথ্যটা যেন সরাসরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার হৃদয়ে গিয়ে ধাক্কা দেয়। নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কীভাবে মাঠে নামানো হবে, কোন এলাকাকে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে—সবই যেন সেই এক বাক্যের ভেতর লুকানো।
বৈঠকে কী জানতে চেয়েছিলেন কমনওয়েলথ মহাসচিব? সচিবের ভাষায়—’তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জানতে চেয়েছেন।’ জবাবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটের জন্য তিন ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রেড জোন—যেখানে উত্তেজনার সম্ভাবনা বেশি; ইয়েলো জোন—যেখানে সতর্ক পাহারা লাগবে; আর গ্রিন জোন—যেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিকর। সচিব আরও বলেন, কমনওয়েলথ প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। “কী ধরনের সহায়তা লাগতে পারে—তা জানতে চেয়েছেন তারা।
প্রয়োজন হলে জানাবো,” যোগ করলেন আখতার আহমেদ। কথাগুলো যতটা সরল, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা কূটনৈতিক বার্তা ততটাই স্পষ্ট—এ নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে, আর নিরাপত্তার সব স্তরকেই এখন আঁটসাঁট করা হচ্ছে।
নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পরিকল্পনাও ঘনীভূত হচ্ছে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল, আর ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট—ইসির এমন সময়চক্র ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থা ও বিদেশি মিশনের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে মাঠের নিরাপত্তা—সেটাই এখন প্রধান উদ্বেগ।
নির্বাচন ভবনের সাদা আলোতে দাঁড়িয়ে সচিব যখন কথা শেষ করলেন, তখন তার পেছনের করিডোরে যেন দ্রুত ছুটে গেল বেশ কিছু সরকারি কর্মকর্তার ছায়া—অদৃশ্য এক প্রস্তুতির ইশারা। বাইরে দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার অবস্থা, কিন্তু দেশের রাজনৈতিক আকাশে আলো-অন্ধকারের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠছে।
রেড, ইয়েলো, গ্রিন—রঙে ভাগ করা মানচিত্র আসলে ভোটের আগে দেশের মনের অবস্থা। কোথাও উত্তাপ, কোথাও আশঙ্কা, কোথাও অপেক্ষা। আর প্রতিটি রংই বলছে একটাই কথা—আগামী নির্বাচন শুধু একটি ঘটনার নয়, বরং পুরো দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্নায়ুতন্ত্রের পরীক্ষা।
Sharing is caring!