১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়: জাতিসংঘে বাংলাদেশের সতর্কবার্তা

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২০, ২০২৫, ০২:২৯ অপরাহ্ণ
১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়: জাতিসংঘে বাংলাদেশের সতর্কবার্তা

Manual3 Ad Code

১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়: জাতিসংঘে বাংলাদেশের সতর্কবার্তা

বিশেষ প্রতিনিধি: জাতিসংঘ সদরদপ্তরের বিশাল হলঘরে আলোটা ঠিক আগের মতোই, নির্বিকার, ঠাণ্ডা। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিনিধির কণ্ঠে আজ আলোর নিচে জমে ওঠে অদৃশ্য উত্তাপ। ১৩ লাখ মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন এক মুহূর্তে ভর করে পুরো হলঘরে।

তৃতীয় কমিটিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার ঠিক পরেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি উঠে দাঁড়ান। নথির পাতায় আগে থেকেই লেখা ছিল বাস্তবতা ২০১৭ সালের পর থেকে আটটি বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু মিয়ানমারের দিক থেকে ফেরত যাওয়ার পথে এক কণাও অগ্রগতি নেই।

‘আর নয়’বাংলাদেশের দৃঢ় বার্তা

Manual7 Ad Code

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিনিধি যখন বললেন, “১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়,” তখন মুহূর্তটি নিছক কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি। বরং মনে হলো, এক রাষ্ট্র তার সীমা ও সহনশীলতার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে শেষবারের মতো ডাক দিচ্ছে।

Manual8 Ad Code

ওই মুহূর্তে পাশের কয়েকজন কূটনীতিকের দৃষ্টি নথির পাতায় আটকে থাকলেও, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা পরে বললেন “বাংলাদেশ এতদিন যে ধৈর্য দেখিয়েছে, সেটা অনেক বড় রাষ্ট্রও পারত না। এবার বার্তাটা স্পষ্ট সময় শেষ।”

Manual8 Ad Code

প্রস্তাবের ভিতরে জমে থাকা দীর্ঘ সংকট

Manual1 Ad Code

ওআইসি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছে; ১০৫টি দেশ এতে পৃষ্ঠপোষক।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে অব্যাহতভাবে, মানবিক সহায়তায় বাধা,
বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশে অনুপ্রবেশের চাপ,
এবং নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন জরুরি প্রয়োজন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, “প্রতিবছরই প্রস্তাব হয়, সমর্থন বাড়ে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই নড়ে না। মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে পিছিয়ে যায়।”

শিবিরে আটকে থাকা প্রজন্মের দীর্ঘশ্বাস

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে থাকা শিশুদের নিয়ে কাজ করা এক আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্মসনদও নেই। তারা জানে না নিজেদের ভবিষ্যৎ কোথায়। এই সংকট আর মানবিক নয়; এটা হয়ে উঠছে অস্তিত্বের সংকট।” বাংলাদেশের বক্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে।

নৈতিক প্রশ্ন: দায় কার?

জাতিসংঘের আলোচনার ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠে—
রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব কি শুধুই বাংলাদেশের?
বিশ্ব যখন প্রস্তাব নিয়ে সন্তুষ্ট, বাস্তব কাজের ভার কি কক্সবাজারে ফেলে রাখা হবে? মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতি চাপ কোথায়?
এই প্রশ্নগুলো প্রতিবেদকের কানে ফিরে ফিরে আসে; কিন্তু উত্তরের দিকে এগোয় না কারও কণ্ঠ।

উপসংহার
সভা শেষে হলঘরের আলো তখনো সেই আগের মতো নির্বিকার। কিন্তু বাংলাদেশের বার্তা আর নির্বিকার নয়।
যেন আট বছরের ক্লান্ত যাত্রা শেষে এক রাষ্ট্র আজ বিশ্বকে বলল—এবার আপনারা এগিয়ে আসুননা হলে এই মানবিক ট্র্যাজেডির দায় বিভক্ত হবে না, বরং একদিন ইতিহাসই জিজ্ঞেস করবে—কে নীরব ছিল?’

প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, কাগজে কলমে সফলতা আছে।
কিন্তু শরণার্থী শিবিরে যেসব পরিবার রাতের আঁধারে ঘুমিয়ে পড়ে, তাদের কাছে এখনো প্রত্যাবাসনের পথ আঁধারেই ঢাকা।
আর বাংলাদেশের কণ্ঠ এবার প্রথমবারের মতো এত স্পষ্ট , এই ভার চিরদিন বহন করা সম্ভব নয়।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code