২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার: আইনি দায়বদ্ধতা বিবেচনার অনুরোধ এনসিএসএর

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০১:০২ অপরাহ্ণ
দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার: আইনি দায়বদ্ধতা বিবেচনার অনুরোধ এনসিএসএর

Manual4 Ad Code

দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার: আইনি দায়বদ্ধতা বিবেচনার অনুরোধ এনসিএসএর

লোকমান ফারুক, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাতের শহর তখন প্রায় নিস্তব্ধ। অফিসপাড়ার আলো ঝিমিয়ে পড়েছে, কিন্তু জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি—এনসিএসএর মনিটরিং রুমে লাল-সবুজ এলইডি বাতিগুলো যেন অন্য রকম সতর্কবার্তা দিচ্ছিল। একের পর এক লিঙ্ক খুলে দেখা যাচ্ছিল—কিছু সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টাল দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রচার করছে।

এ যেন সেই পুরোনো প্রবচনের মতো—”আগুন নিয়ে খেলা করলে হাত পুড়ে যেতেই পারে।” আর সেই আগুন এবার ছড়িয়েছে ডিজিটাল পরিসরে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ জসীম উদ্দিনের পাঠানো বার্তায় এনসিএসএ ঘটনাটিকে ‘গুরুতর উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করে আয়নার মতো পরিষ্কার করে দেয় একটি প্রশ্ন—আইন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, আর মিডিয়া কী করছে?

সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ:

বার্তায় বলা হয়, প্রচারিত এসব বক্তব্যে শুধু রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার মতো আহ্বান রয়েছে—যেখানে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক উসকানির সরাসরি নির্দেশনা পাওয়া গেছে।

এনসিএসএর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বক্তব্যগুলো সাধারণ মতামত নয়—এগুলো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ, যা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করতে পারে। রাতারাতি আগুন ছড়িয়ে পড়ার মতো।’

আইন যা বলছে:

Manual1 Ad Code

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ যেন এই মুহূর্তে ধুলো ঝেড়ে মুখ তুলে দাঁড়িয়েছে। ধারা ৮(২) স্পষ্টই বলে—যে কোনো ডিজিটাল সামগ্রী যা দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে, জাতিগত বা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ায় অথবা সহিংসতার আহ্বান জানায়—সেসব তথ্য অপসারণ বা ব্লক করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

আরও কড়াকড়ি আছে ধারা ২৬-এ ‘ছদ্ম পরিচয়’ ব্যবহার করে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা সহিংসতা উসকে দেওয়া বক্তব্য প্রচার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড কিংবা দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের ভাষা কঠোর, কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই—জননিরাপত্তা:

Manual8 Ad Code

মিডিয়ার প্রতি সতর্কবার্তা, কিন্তু স্বাধীনতাকে সম্মান,
বার্তায় বলা হয়, এনসিএসএ সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে—বরাবরই করেছে। তথাপি দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের উসকানিমূলক বিবৃতি প্রচার করলে আইনি দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে হবে—এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।

মিডিয়া সংশ্লিষ্ট এক সম্পাদক বলেন, “দায়িত্বশীলতা আর স্বাধীনতা—দুটোই হাত ধরাধরি করে চলতে হয়।’ কিন্তু কখনো কখনো সীমারেখা আঁকা কাগজে নয়, বিবেকেই করতে হয়’

এক অদৃশ্য উত্তেজনা:

এই ঘটনার পেছনে যেন আরও বড় গল্প লুকিয়ে আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার ঘূর্ণাবর্তে দাঁড়িয়ে মিডিয়া কীভাবে নিজেকে স্থির রাখবে? কীভাবে সত্য প্রকাশ করবে, কিন্তু আগুনে ঘি ঢালবে না?
এ যেন সাংবাদিকতার চিরাচরিত সেই টানাপোড়েন—
‘তোমার সত্য বলতেই হবে, কিন্তু সেই সত্যটাই যেন সমাজকে না ভাঙে।’
এনসিএসএর সতর্কবার্তা সেই প্রশ্নই আবার সামনে নিয়ে আসে—আইন, নীতি, দায়িত্ব আর বাস্তবতার সূক্ষ্ম ভারসাম্য।

Manual8 Ad Code

ঘটনার মতোই অমোঘ:

রাত গভীর হলে যেমন শহরের আলো ম্লান হয়, তেমনি এই বিতর্কের ভেতরেও একটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে—সমাজের স্থিতি রক্ষায় শব্দও কখনো কখনো অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

Manual4 Ad Code

আর তাই মিডিয়ার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্যই এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ—যেন তীরের মতো না ছুটে, সত্যের মতো দাঁড়ায়।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code