২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

গাজায় ফের হামলার হুমকি

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫, ০৯:২৯ অপরাহ্ণ
গাজায় ফের হামলার হুমকি

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক,

ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে—এই অভিযোগ এনে গাজায় জিম্মিদের মুক্তি ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য স্থগিত করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এই অভিযোগের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুনরায় গাজায় যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম আল মনিটরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। তা না হলে গাজায় নরক ভেঙে পড়বে, আর তার দায় নিতে হবে হামাসকে। জিম্মিদের মুক্তি না দিলে এরপর ইসরায়েল যা চায়, করতে পারে।

Manual8 Ad Code

নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে ট্রাম্পের এই দাবি এবং গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

Manual5 Ad Code

নেতানিয়াহু গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘যদি শনিবার দুপুরের মধ্যে হামাস আমাদের বন্দীদের ফিরিয়ে না দেয়, তাহলে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যাবে এবং আমরা পূর্ণমাত্রায় লড়াইয়ে ফিরে যাব।’

নেতানিয়াহু বলেন, ‘হামাস চুক্তি প্রত্যাহার করে আমাদের জিম্মিদের মুক্তি দিতে অস্বীকার করার পর, আমি গত রাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে গাজার ভেতরে এবং আশপাশে অবস্থান নিতে নির্দেশ দিয়েছি। এই অভিযান এখন চলছে এবং শিগগিরই এটি সম্পন্ন হবে।’

Manual6 Ad Code

তবে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের দাবিকৃত অবশিষ্ট ৭৬ জিম্মির মুক্তির কথা বলেছেন, নাকি কেবল সেই তিনজনের, যাদের এই শনিবার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল, তা স্পষ্ট নয়।

একটি ইসরায়েলি কূটনৈতিক সূত্র চ্যানেল ১২-কে জানিয়েছে, সরকার আশা করছে প্রথম পর্যায়ের চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত বাকি ১৭ জন অপহৃত ব্যক্তিকে কয়েক দিনের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া হবে, অন্যথায় ইসরায়েল চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে আলোচনায় এগোবে না। ধারণা করা হচ্ছে, এই ১৭ জনের মধ্যে আটজন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে অবশিষ্ট বন্দীদের মুক্তি, শত শত ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Manual1 Ad Code

গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতিতে এখন পর্যন্ত ২১ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। অন্যদিকে মুক্তি পেয়েছেন ৫৬৬ জন ফিলিস্তিনি।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code