স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
কোনো ‘অন্যায়’ স্থায়ী হবে না এবং বিক্ষোভকারীদের রক্ত বৃথা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেহেদী মাহদাভিকিয়া।
ইরানের একটি ফরেনসিক সেন্টারে রাখা মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন একজন নারী।
কাহরিজাক ফরেনসিক সেন্টারে মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন নারীর একটি ছবি পোস্ট করে মাহদাভিকিয়া বলেছেন, ‘ছবিটি নিজেই কথা বলছে। যদি কারও হৃদয়ে ব্যথা না থাকে, তাহলে তাদের কোনো সম্মান এবং মানবতা নেই।’
তিনি জনসাধারণকে ইরানের বিক্ষোভে নিখোঁজদের খুঁজতে থাকা স্বজনদের বেদনা উপলব্ধি করার কথাও বলেন। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের। শোকাহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মাহদাভিকিয়া লেখেন, নিজেকে সেই বাবা-মায়ের জায়গায় ভাবুন যারা তাদের প্রিয় সন্তানদের খুঁজছেন। যারা এটি ঘটিয়েছে তাদের অভিশাপ দিন।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বা পরবর্তী সহিংসতায় মোট ৩০৫টি অ্যাম্বুলেন্স ও বাস, ২৪টি গ্যাস স্টেশন এবং প্রায় ৭০০টি কনভেনিয়েন্স স্টোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩০০টি ব্যক্তিগত বাড়ি, ৭৫০টি ব্যাংক এবং ৪১৪টি সরকারি ভবন আক্রমণের শিকার হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। এতে ৭৪৯টি পুলিশ স্টেশন, ১২০টি আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ কেন্দ্র এবং ৬০০টি এটিএম ভাঙচুর বা ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি পরিবহন খাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫৩টি বাস টার্মিনাল ও প্রায় ৮০০টি ব্যক্তিগত গাড়ি। ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এই সহিংসতা থেকে রেহাই পায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ৩৫০টি মসজিদ, ২টি আর্মেনিয়ান গির্জা, ২০০টি স্কুল এবং ১৫টি লাইব্রেরি।
হামলায় প্রাণহানির সংখ্যাও ভয়াবহ। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬৯০ জন হামলাকারী বা ‘সন্ত্রাসী’।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় মোট ৪ হাজার ৫১৯ জন নিহত হয়েছেন।
Sharing is caring!