স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
করেছে ফরাসি নৌবাহিনী। অভিযোগ করে বলা হচ্ছে, জাহাজটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, তেলবাহী জাহাজটি ‘রাশিয়া থেকে আসছিল, এটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এবং ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল বলে সন্দেহ রয়েছে’।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই অভিযানটি একাধিক মিত্র দেশের সহায়তায় এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের পূর্ণ সম্মতির মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। জাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্পেন ও মরক্কোর মধ্যবর্তী এলাকা থেকে ‘গ্রিঞ্চ’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ নৌবাহিনী জব্দ করেছে। পরে যুক্তরাজ্য নিশ্চিত করে যে তারা এই জাহাজ জব্দের অভিযানে সহায়তা করেছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, যুক্তরাজ্য জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সহায়তা দিয়েছে। এমন সময়ে এই জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘটল, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের জবাবে মস্কোর বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তবে প্রতিবেদন অনুসারে, এসব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর কাছে মস্কো এখনও লাখ লাখ ব্যারেল তেল বিক্রি করে যাচ্ছে। এই তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয় পশ্চিমা সামুদ্রিক শিল্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিচালিত একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার-এর নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে শতাধিক রুশ জাহাজ ভুয়া পতাকা ব্যবহার করেছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন তেল পরিবহন করেছে, যার মূল্য ৪৭০ কোটি ইউরো (৫৫ বিলিয়ন ডলার)।
এদিকে জাহাজটি জব্দের জন্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ফ্রান্সে অবস্থিত রুশ দূতাবাস বলেছে যে জাহাজটি আটকানোর বিষয়ে তাদের আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
Sharing is caring!