৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ২৩ বছরের কারাদণ্ড

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ণ
এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ২৩ বছরের কারাদণ্ড

Manual6 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual3 Ad Code

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণার কয়েকদিন পর এবার দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সু।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিচারিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী রায়ে ২০২৪ সালের সামরিক আইন জারিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রায় ঘোষণার পরপরই আদালত কক্ষ থেকেই হান ডাক-সুকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিচারপতি লি জিন-গোয়ান রায় পাঠের সময় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিদ্রোহের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা ছিল আসামির দায়িত্ব। কিন্তু তিনি বরং সামরিক আইনকে বৈধ দেখানোর চেষ্টা করেছেন, জাল নথি তৈরি ও ধ্বংস করেছেন এবং সাংবিধানিক আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।’

Manual1 Ad Code

আদালত জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইওন সুক ইউল- এর ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ঘোষিত সামরিক আইন ছিল অসাংবিধানিক ও অবৈধ।

আদালত প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, ‘৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন ঘোষণার মাধ্যমে সংসদ, জাতীয় নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়, যা ফৌজদারি আইনের ৮৭ ধারার অধীনে একটি বিদ্রোহ। একে আমরা ‘১২.৩ বিদ্রোহ’ হিসেবে উল্লেখ করব’।

Manual5 Ad Code

ফৌজদারি আইনের ৮৭ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রক্ষমতা উৎখাত বা সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ভাঙার উদ্দেশ্যে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগকে বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে অনেক তথ্য, সামরিক আইন ঘোষণাকে বৈধ দেখাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান। মন্ত্রীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার চেষ্টা। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ জেনেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া। নির্দিষ্ট গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বন্ধের বিষয়।

আদালত জানায়, যদিও হান দাবি করেছিলেন তিনি প্রেসিডেন্টকে সামরিক আইন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি স্পষ্টভাবে কোনো আপত্তি জানাননি।

Manual3 Ad Code

আদালত হান ডাক-সুকে আরও যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে। ৬ ডিসেম্বর (সামরিক আইন ঘোষণার তিন দিন পর) নতুন সিনক্রেট তৈরি করে ঘটনাকে পেছন থেকে বৈধ করার চেষ্টা। পরে সেই নথি ধ্বংসের নির্দেশ।

প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে পাওয়া নথি অবৈধভাবে অপসারণ। অভিশংসন শুনানিতে পূর্বজ্ঞান ও নথি পাওয়ার বিষয় অস্বীকার করে মিথ্যা সাক্ষ্য। রায় ঘোষণার আগে আইনজীবীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেও রায় শোনার পর হান ডাক-সু দৃশ্যত বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি আদালতের সিদ্ধান্ত বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছি।’

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code