স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের বন্দরনগরী
মুকাল্লার কাছে একটি গোপন কারাগার পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।গত ৩ জানুয়ারি ইয়েমেনের সরকারপন্থি বাহিনী হাদরামাউতের মুকাল্লা শহরে সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত এসটিসি’র বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইয়েমেনের মুখাল্লা শহরের কাছে আল-রাইয়ান বিমানঘাঁটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত গোপন কারাগার চালাচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সেখানে মিলেছে বিস্ফোরক ও বুবি ট্র্যাপ।
গভর্নর বলেন, এই তৎপরতা ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তার লক্ষ্য বা জোটের ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি জানান, আমিরাত বাহিনী পরিচালিত বেশ কয়েকটি গোপন কারাগারের নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হচ্ছে, পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।তবে ইয়েমেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দেশটি জানিয়েছে, হাদরামাউতের গভর্নরের বক্তব্য ‘ইচ্ছাকৃতভাবে বানোয়াট এবং ভুল তথ্য ছাড়া আর কিছুই নয়’।
আমিরাত আরও জানায়, যেসব স্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো মূলত সামরিক আবাসন, অপারেশন কক্ষ ও সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে কিছু স্থাপনা ভূগর্ভে অবস্থিত, যা বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাগুলোর একটি সাধারণ ও সুপরিচিত বৈশিষ্ট্য। এসব স্থাপনার বিষয়টি স্বাভাবিক সামরিক প্রেক্ষাপটের বাইরে কোনো ইঙ্গিত বহন করে না।
এদিকে যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০০ এর বেশি মানুষ। আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ৫০ শতাংশেরও বেশি।
আইওএম বলছে, সংঘাত, সহিংসতা ও জীবনযাত্রার অবনতির কারণে এই বাস্তুচ্যুতি ইয়েমেনের দুর্বল ত্রাণ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। মানবিক সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট আরও তীব্র হবে।
এরমধ্যেই রিয়াদে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী আল-জিন্দানি। তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দেন, ইয়েমেনের বর্তমান সংকট মোকাবিলা ও শান্তি–স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ওয়াশিংটন-সানা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
Sharing is caring!