২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

প্রশাসন অলরেডি একদিকে হেলে পড়েছে – আকতার হোসেন

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ণ
প্রশাসন অলরেডি একদিকে হেলে পড়েছে – আকতার হোসেন

Manual1 Ad Code

লোকমান ফারুক | রংপুর

রাত নেমেছে কাউনিয়ার তকিপল বাজারে দোকানগুলোর আলো, ভাঙা মাইকের শব্দ আর মানুষের কোলাহলের ভেতর হঠাৎ করেই উচ্চারিত হয় এক শব্দ—অশনিসংকেত। শব্দটি উচ্চারণ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল উদ্বেগ, আর বক্তব্যে ছিল ভবিষ্যতের আশঙ্কা।
“প্রশাসনের একটা পক্ষ অলরেডি একটা দলের পক্ষে ঝুঁকে পড়েছে,” বলেন আখতার হোসেন। ‘এটা বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত।’

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তকিপল বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন তিনি। চারপাশে দাঁড়ানো মানুষ, ক্যামেরা আর নোটবই—সব মিলিয়ে মুহূর্তটি ছিল সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো। কিন্তু কথার ভেতরের ইঙ্গিত ছিল অস্বস্তিকর। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড—কাগজে নাকি মাঠে?

Manual5 Ad Code

আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে গড়তে হলে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকেই এই পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।
“সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এনসিওর করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সমুন্নত করার জন্য একত্রে কাজ করতে হবে,—বলেন তিনি।

Manual1 Ad Code

তার বক্তব্যে প্রশাসন কোনো একক চরিত্র নয়, বরং একটি প্রবণতা। নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেই সেই প্রবণতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ‘আমরা খেয়াল করছি,’ বলেন আখতার হোসেন, ” নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশাসন কিছু কিছু জায়গায় পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছে।
ঝুঁকে পড়ার চিত্র—প্রশাসন, ব্যবসা ও মিডিয়া
বক্তব্যের পরিধি শুধু প্রশাসনে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। আখতার হোসেন বলেন,”দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসায়ীদের দিকেই তাকান, মিডিয়ার দিকেই তাকান অথবা প্রশাসনের দিকেই তাকান—একটা দিকে ঝুঁকে যাওয়ার এক ধরনের প্রবণতা আমরা খেয়াল করছি।
এই বক্তব্যে সরাসরি কারো নাম নেই, নেই কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ। কিন্তু ইঙ্গিতটি স্পষ্ট—রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আখতার হোসেনের বক্তব্যের সবচেয়ে তীব্র অংশটি আসে স্মৃতিচারণে। তিনি বলেন, “যে প্রশাসন আজ কোনো একটা দলের পক্ষপাতিত্ব করছে, সেই প্রশাসনই কিছুকাল আগে সেই দলকে দমন নিপীড়ন করার জন্য ভূমিকা রেখেছে। তার ভাষায়, পরিবেশ বদলালে প্রশাসনের অবস্থানও বদলায়।
“যখন অন্য কোনো ধরনের পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হবে, বলেন তিনি, ‘সেই দলকে আবারো দমন নিপীড়ন করার জন্য তারা উদগ্রীব হয়ে পড়বে।
এই বক্তব্যে প্রশাসন যেন এক অনিশ্চিত পাল্লা—যেখানে নীতি নয়, পরিস্থিতিই ভার নির্ধারণ করে।

Manual3 Ad Code

আখতার হোসেন এখানেই থামেননি। তিনি বলেন, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ রাখতে হলে শুধু প্রশাসনের দায় নয়, যে দল প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব পাচ্ছে, সেই দলেরও দায় আছে। ‘প্রশাসনকে যদি নিরপেক্ষ রাখতে হয় এবং জনগণের জন্য উপযোগী করে তুলতে হয়, বলেন তিনি, ‘তাহলে যে দলের পক্ষপাতিত্ব করছে প্রশাসন, সেই দলকেও এই পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে থাকতে হবে।
এই বক্তব্যে অভিযোগের পাশাপাশি একটি নৈতিক আহ্বানও রয়েছে—ক্ষমতা পেলেই নিরপেক্ষতার দাবি ত্যাগ করা যাবে না।

Manual3 Ad Code

তকিপল বাজারে তখন আবার স্বাভাবিক কোলাহল। বক্তব্য শেষ, মাইক নেমে গেছে। কিন্তু প্রশ্নগুলো থেকে যায়। প্রশাসন কি সত্যিই একদিকে ঝুঁকছে?
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কি কেবল রাজনৈতিক ভাষণের শব্দ, নাকি বাস্তব কোনো প্রতিশ্রুতি?

রাতের বাজার যেমন ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যায়, তেমনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও আপাতত অদৃশ্য। কিন্তু আখতার হোসেনের উচ্চারণ করা ‘অশনিসংকেত’ শব্দটি বাতাসে রয়ে যায়—আগামী দিনের রাজনীতিতে তার প্রতিধ্বনি কতটা গভীর হবে, সেটাই এখন দেখার।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code