স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
‘আমি ভেবেছিলাম আমার ছোট ভাই হয়ত ভেতরে আছে, তাই আমি এসে জানালা ভেঙে লোকজনকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করলাম, তারপর ভেতরে ঢুকলাম।
সুইজারল্যান্ডের রিসোর্ট ক্র্যানস-মন্টানায় নববর্ষের পার্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৮ বছর বয়সী এক যুবক বিবিসিকে এসব কথা বলেন।
আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করা হয়নি, তবে কর্মকর্তারা বলেছেন যে এটি কোনো হামলার ঘটনা নয়।
আগুন লাগার পর উৎসবের সন্ধ্যাটি দ্রুত দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত ১:৩০ নাগাদ লে কনস্টেলেশন নামক একটি বারে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন, যাদের বেশিরভাগই গুরুতরভাবে দগ্ধ।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই যুবক বিবিসিকে জানান, তিনি বারের কাছাকাছি থাকাকালীন একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান, এরপর প্রচুর ধোঁয়া বের হয়।
অন্যরা পালানোর চেষ্টা করলে, তিনি তার ভাইকে খুঁজতে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ভেতরে ঢুকে ভয়াবহ এক দৃশ্য দেখতে পান।
আমি চোখের সামনে মানুষদের জ্বলতে দেখেছি… মাথা থেকে পা পর্যন্ত মানুষরা জ্বলছিল। তাদের গায়ে কোনো পোশাকও ছিল না। খুবই মর্মান্তিকভাবে আগুনে পুড়ছিলেন তারা। বলেন ওই যুবক। তবে তার ভাই অক্ষত ছিলেন।
‘এই সপ্তাহে আমি প্রতিদিন এই বারে গিয়েছিলাম। যেদিন আমি যাইনি, সেদিনই এটি পুড়ে গেলো।’ বলেন তিনি।
জানান, দমকলকর্মী এবং চিকিৎসকরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, কিন্তু তিনি যেখানেই সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেন, দগ্ধদের জল এবং কাপড় দিয়ে সাহায্য করেন।
লে কনস্টেলেশন বারটি অনেক বড় যেখানে প্রায় ৩০০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, দুটি তলা এবং একটি বারান্দা আছে, যদিও সেই সময় বারে কতজন লোক ছিল তা জানা যায়নি।
এদিকে, দুই ফরাসি নারী এমা এবং আলবেন, ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন যে আগুনের সূত্রপাতের সময় তারা ভেতরে ছিলেন।
তারা জানান, তাদের বিশ্বাস, একজন ওয়েট্রেস যখন কিছু শ্যাম্পেনের বোতলের উপরে ‘জন্মদিনের মোমবাতি’ রেখেছিলেন তখনই এই অগ্নিকাণ্ডের শুরু হয়।
‘কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ছাদ আগুনে পুড়ে গেল। সবকিছু কাঠের তৈরি বলে আগুন খুব দ্রুত উপরে উঠতে শুরু করে।’ জানান তারা।
এমা এবং অ্যালবেন আরও বলেন, তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসা সেই সময় খুব কঠিন ছিল, কারণ তারা যে ঘরে ছিলেন, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ ছিল সরু এবং বাইরে যাওয়ার সিঁড়িগুলো আরও সংকীর্ণ ছিল।
তারা আরও দাবি করেন, প্রায় ২০০ জন লোক ওই সরু ধাপ অতিক্রম করে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল।
বারের ভেতরে থাকা আরেক কিশোর বিবিসিকে জানিয়েছে, কীভাবে সে প্রাচীরে লাগা আগুন থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিল এবং তারপর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে সক্ষম হয়েছিল।
তবুও, সে বের হতে পারছিল না। তাই টেবিল দিয়ে জানালা ভাঙার চেষ্টা করল। এরপর সে তার পা দিয়ে কাঁচ ভেঙে ফেলল এবং জীবিত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল।
এদিকে, ঘটনার পর নিকটতম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় এবং কিছু রোগীকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রতিবেশী ইতালির মিলানও রয়েছে।
আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করা হয়নি, তবে কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে এটি কোনো হামলার ঘটনা নয়।
Sharing is caring!