২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

হাসিনার নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়ে যা বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ০২:৫৭ অপরাহ্ণ
হাসিনার নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়ে যা বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Manual7 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধি

Manual5 Ad Code

নয়াদিল্লির শীতল ডিসেম্বর দুপুরে আলোঝলমলে একটি স্টুডিও—এনডিটিভির অনুষ্ঠানে কথার গতিপথ হঠাৎই মোড় নিল বাংলাদেশে।

উপস্থাপকের সরল প্রশ্নে তৈরি হল এক জটিল নৈঃশব্দ্য—ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে যে রহস্য, তারই একটি অংশ যেন উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ধীর কণ্ঠে বললেন—’এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’ বক্তব্যটি সরল মনে হলেও তার ভেতরে লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক পরিস্থিতির জটিল ছায়া, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অগোচর শব্দ, আর কূটনীতির অত্যন্ত সাবধানী পদচিহ্ন। ‘

Manual3 Ad Code

পরিস্থিতি তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে’ শেখ হাসিনা কেন ভারতে, কতদিন থাকবেন, কোন শর্তে এসেছেন—প্রশ্নগুলো এখন ঢাকা থেকে দিল্লি পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জয়শঙ্কর বললেন,”তিনি যেসব পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছেন, সেই পরিস্থিতিগুলোই এখন তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।”

কথাটি বলার সময় তার স্বর ছিল না অভিযোগপরায়ণ, না অতিরিক্ত সমর্থনমূলক—বরং রাষ্ট্রীয় কূটনীতির জটিল ভারসাম্য। যেন তিনি স্পষ্টও বললেন, আবার ধোঁয়াটাও রাখলেন।

শেখ হাসিনা ‘ইচ্ছা করলে যতদিন খুশি থাকতে পারবেন কি না’—প্রশ্নটি করা হলে জয়শঙ্কর আরেকটি দ্ব্যর্থহীন-দ্ব্যর্থযুক্ত মন্তব্য রাখলেন: ‘এটি ভিন্ন বিষয়… ভবিষ্যত নির্ধারণে পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আলোচনার মাঝেই জয়শঙ্কর বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন—’বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জরুরি।

এটি শুধু কূটনৈতিক মন্তব্য নয়—ঢাকায় চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তন, রূপান্তর এবং অনিশ্চয়তাকে ইঙ্গিত করে এমন সূক্ষ্ম বার্তা।

যেন তিনি বলতে চাইছেন, দিল্লি আলোচনায় রাখবে না কোনো বিভাজন, বরং নজর রাখছে প্রক্রিয়ায়—কোনো একক ব্যক্তির ওপর নয়। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নিয়ে। ‘আমরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করি… জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় এমন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই স্থিতির ভিত্তি,—বললেন তিনি।

তার কথায় যেন দুই দেশের দীর্ঘ বন্ধুত্ব, অস্থিরতার মাঝেও টিকে থাকা আস্থার সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের স্পন্দন একসাথে মিলেমিশে প্রতিফলিত হলো।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক, তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে পরিপক্ব ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেবে—এটাই আমাদের আশা।

স্টুডিওর আলো স্থির, ক্যামেরা তাকিয়ে—কিন্তু বাতাসে জমে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর নেই—শেখ হাসিনার ফেরার পথ কেমন?:ভারত তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে কি? ঢাকার ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে?

Manual6 Ad Code

জয়শঙ্কর সেসব প্রশ্ন ছুঁয়ে গেলেন, কিন্তু ধরে রাখলেন না—কূটনীতির নিয়মে তিনি রেখেছেন স্পেস, আর রেখে গেছেন বিস্তর পাঠোদ্ধারের সুযোগ।

শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হলো শুধু একটি বিষয়— শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান; না দিল্লির সিদ্ধান্ত, না ঢাকার নির্দেশ—বরং তার নিজের নির্বাচন, কিন্তু সেই নির্বাচনের পেছনের পরিস্থিতি এখনও ছায়ায় আচ্ছন্ন। কূটনীতি তাই আবারও নীরবতার ভাষায় বলল— যেসব প্রশ্নের উত্তর সময় দেয়, সেগুলো কখনোই চাপ দিয়ে বের করা যায় না।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code