২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

অস্ত্র হাতে টহল দিতে হলে কোনো দেশই গাজায় সেনা পাঠাবে না: জর্ডানের বাদশাহ

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৫:৪৮ অপরাহ্ণ
অস্ত্র হাতে টহল দিতে হলে কোনো দেশই গাজায় সেনা পাঠাবে না: জর্ডানের বাদশাহ

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের আওতায় গাজায় শান্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে কোনো দেশ আগ্রহী হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।

Manual1 Ad Code

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতায় যদি আন্তর্জাতিক বাহিনীকে ‘শান্তি প্রয়োগকারী’ হিসেবে মোতায়েন করা হয়, তাহলে কোনো দেশই তাতে অংশ নিতে চাইবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা করবে।

এ বাহিনী প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশকে সহায়তা করবে এবং জর্ডান ও মিশরের সঙ্গে পরামর্শ করবে—যাদের এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করে গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হবে।

Manual1 Ad Code

বাদশাহ আবদুল্লাহ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘গাজায় নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব কী হবে? আমরা আশা করি এটি শান্তিরক্ষা মিশন হবে। কারণ যদি এটি শান্তি প্রয়োগের ম্যান্ডেট পায়, তাহলে কেউই এতে অংশ নিতে চাইবে না।’ বিবিসি প্যানোরামাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, জর্ডান ও মিশর ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মানে হচ্ছে স্থানীয় ফিলিস্তিনি পুলিশকে সহায়তা করা—যা জর্ডান ও মিশর বড় পরিসরে করতে ইচ্ছুক, তবে এতে সময় লাগবে। কিন্তু যদি আমাদের গাজার রাস্তায় অস্ত্র হাতে টহল দিতে হয়, তাহলে কোনো দেশই এমন পরিস্থিতিতে জড়াতে চাইবে না।

Manual1 Ad Code

বাদশাহ আব্দুল্লাহর মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সেই উদ্বেগকেই প্রতিফলিত করেছে, যাতে হামাস ও ইসরাইল কিংবা হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না।

তিনি বলেন, জর্ডান গাজায় সেনা পাঠাবে না, কারণ দেশটি রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত’।

জর্ডানের অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত, আর দেশটি গত কয়েক দশকে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে—যা অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

Manual2 Ad Code

গাজায় রাজনৈতিক ভূমিকা ত্যাগ করার বিষয়ে হামাসের প্রতি আস্থা আছে কিনা এমন প্রশ্নে জর্ডানের বাদশাহ বলেন, ‘আমি তাদের চিনি না, কিন্তু কাতার ও মিশরের যেসব কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, তারা খুবই আশাবাদী যে হামাস তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমরা এই সমস্যার সমাধান না করি, যদি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো ভবিষ্যৎ ও আরব-মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক তৈরি না হয়, তাহলে আমরা সবাই ধ্বংসের মুখে পড়ব।’

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code