২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ইউরোপের বাজারে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম।

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইউরোপের বাজারে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম।

Manual3 Ad Code

ইউরোপের বাজারে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম।

স্বপ্না শিমুঃ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের দাম কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে বছর ব্যবধানে বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই দাম কমেছে ১২ শতাংশ। চাহিদা কমে যাওয়া এবং মার্কিন শুল্কের প্রভাব মিলিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইউরোপের বাজারে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়বে। চলতি অর্থবছর জুলাই মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে শুরু হলেও জানুয়ারি পর্যন্ত পরবর্তী ছয় মাসে রফতানি আয় আর বাড়েনি। এর পেছনে তৈরি পোশাক খাতের রফতানি বাজারে ধাক্কা খাওয়াকেই কারণ হিসেবে দেখছেন পোশাক শিল্প মালিকরা।

Manual4 Ad Code

এর মধ্যেই আবার মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে সামনে আসছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পোশাকের ইউনিট প্রাইস কমার ক্ষতচিহ্ন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান দফতর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসেই দাম কমেছে ১২ শতাংশ।

Manual8 Ad Code

বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, চীন ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপে পড়ে এখন ইউরোপের বাজারে ঝুঁকছে। তাদের কাঁচামাল ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী হওয়ায় তারা কম দামে পণ্য দিতে পারছে। আমরা যে পণ্য পাঁচ ডলারে দিতাম, চীন সেটি চার ডলারে দিচ্ছে। ক্রেতারা তো কম দামে কিনতেই চাইবে। তাই তারা ভারত ও চীন ইউরোপে কম দামে অর্ডার নিচ্ছে, যাতে নিজেদের শিল্প টিকিয়ে রাখতে পারে। ইউরোপে পোশাকের চাহিদা কমলেও মার্কিন শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্র বিমুখ দেশগুলো এখন ইউরোপের বাজার দখলে নেমেছে। এতে বাংলাদেশি রফতানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

Manual6 Ad Code

রশিদ আহমেদ হোসাইনী আরও বলেন, ইউরোপের বাজার আমরা অনেকটাই হারাচ্ছি। এটা পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা সরকারের কাছে ভর্তুকির আবেদন করছি। ভর্তুকি শিল্প মালিকদের জন্য নয়, শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য। যদি আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারি এবং ভারত-চীন বাজার দখল করে নেয়, তাহলে দেশের কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।

Manual5 Ad Code

বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করতে ছয় থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। তবে আমাদের বাণিজ্য সচিব জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তিন বছরের মধ্যে তা করতে পারবে। এটা করতে পারলে তো ভালো। ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করা যায়, তাহলে তা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য বাণিজ্য ব্লকের সঙ্গেও চুক্তি করতে পারলে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও বাড়বে।

ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপে বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়বে; এমন আশঙ্কা থেকে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, ট্রাম্পের যে কড়া নীতি; ইউরোপের বাণিজ্য সম্প্রসারণের তাগিদকে উস্কে দিয়েছে; সেই সুযোগ লুফে নিতে হবে বাংলাদেশকেও।

র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববাজারে গার্মেন্টস খাত এখন তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারে। সেই সুযোগ বাংলাদেশকে কাজে লাগাতে হবে।২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে। এর প্রায় অর্ধেকই গেছে ইউরোপের বাজারে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code