২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

শুকিয়ে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ইরাকের টাইগ্রিস নদী

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ
শুকিয়ে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে ইরাকের টাইগ্রিস নদী

Manual3 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে ইরাকের টাইগ্রিস নদী (আরবিতে একে দজলা বলা হয়)। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই যদি জরুরি পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে এর তীরে বসবাসকারী প্রাচীন সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন আমূল বদলে যাবে।

যা স্থানীয়দের ক্রমেই উদ্বিগ্ন করে তুলছে। আস্তো আস্তে শুকিয়ে যাচ্ছে ইরাকের টাইগ্রিস নদী। টাইগ্রিস নদীতীরে বাস করে এমন প্রাচীন একটি সম্প্রদায়ের নেতা শেখ নিধাম ক্রেইদি আল সাবাহি। তিনি কেবল প্রবহমান নদীর পানি ব্যবহার করেন।

৬৮ বছর বয়সি এই ধর্মগুরু জানান, টাইগ্রিস নদীর পানি পান করে তিনি কখনও অসুস্থ হননি এবং তিনি বিশ্বাস করেন, নদীর পানি যতক্ষণ প্রবাহিত হচ্ছে ততক্ষণ তা পরিষ্কার। কিন্তু তার আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে এই প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

Manual2 Ad Code

টাইগ্রিস নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। নদীটিকে বাঁচাতে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এর তীরে বসবাসকারী প্রাচীন সম্প্রদায়গুলোর জীবনযাত্রার মৌলিক পরিবর্তন ঘটবে।

দক্ষিণ ইরাকের আমরাহ শহরে নদীর তীরে বসবাসকারী মান্দিয়ান ধর্মীয় নেতা শেখ নিধাম বলেন, ‘পানি নেই, জীবনও নেই।’ মান্দিয়ানরা হলো বিশ্বের প্রাচীনতম জ্ঞানবাদী ধর্মগুলোর মধ্যে একটির সদস্য। এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ ইরাক, বিশেষ করে মেসান প্রদেশ তাদের মাতৃভূমি। প্রাদেশিক রাজধানী আমরাহ টাইগ্রিস নদীর চারপাশে গড়ে উঠেছে। পানি তাদের বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু এবং জীবনের প্রতিটি বড় ঘটনায় আচারগত শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন হয়।

Manual7 Ad Code

বিবাহ অনুষ্ঠান শুরু হয় পানি দিয়ে এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে মান্দিয়ানদের চূড়ান্ত শুদ্ধির জন্য নদীতে নিয়ে যেতে হয়। শেখ নিধাম বিষয়টির ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমাদের ধর্মের জন্য পানির গুরুত্ব বাতাসের মতো। পানি ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব থাকবে না। সৃষ্টির শুরুতে আদম ছিলেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ।

আদমের আগে পানি ছিল এবং পানি ছিল আদমকে সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর মধ্যে একটি।’ টাইগ্রিস হলো সেই দুটি বিখ্যাত নদীর মধ্যে একটি, যা মেসোপটেমিয়াকে (ইরাকের প্রাচীন নাম) ঘিরে রেখেছে। নদীটি দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কে উৎপন্ন হয়ে ইরাকের দুটি বৃহত্তম শহর মসুল ও বাগদাদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ইউফ্রেটিসের (আরবিতে ফোরাত বলা হয়) সঙ্গে মিলিত হয়।

এই নদীগুলোর তীরেই বিশ্বের ইতিহাস পরিবর্তিত হয়েছিল।এখানে প্রথম বড় আকারের কৃষির বিকাশ ঘটে, প্রথম লেখালেখি শুরু হয় এবং চাকার আবিষ্কার হয়।

বর্তমানে টাইগ্রিসের পানি সেচ, পরিবহন, শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। সেই সঙ্গে এর অববাহিকায় বসবাসকারী আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের পিপাসা মেটায়। গত কয়েক দশকে নদীর স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

নদীর পানির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। ৩০ বছরে তুরস্ক টাইগ্রিসের ওপর প্রধান বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার ফলে বাগদাদে পৌঁছানো পানির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ কমে গেছে। ইরাকের অভ্যন্তরেও পানির অতিরিক্ত ব্যবহার হয়, বিশেষ করে কৃষিখাতে যা দেশের ভূপৃষ্ঠের জলের কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ ব্যবহার করে। জলবায়ু সংকটও প্রভাব ফেলছে। ইরাকে বৃষ্টিপাত ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং দেশটি প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ খরার কবলে রয়েছে।

Manual7 Ad Code

চলতি বছরের গ্রীষ্মে টাইগ্রিসে পানির স্তর এত নিচে নেমে গিয়েছিল যে, মানুষ সহজেই হেঁটে নদী পার হতো।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code