৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

দুঃখপ্রকাশ করলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৫, ০১:৫২ অপরাহ্ণ
দুঃখপ্রকাশ করলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

৫ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলার সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সেই সমালোচনার জন্য দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন তিনি। আজ শুক্রবার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি দুঃখপ্রকাশ করে তা প্রত্যাহার করে নেন।

Manual4 Ad Code

Loaded: 17.23%

Remaining Time 9:21

নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে তিনি লেখেন, ‘আমি সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনের বিষয়ে যা লিখেছিলাম, তার কিছু অংশের সংশোধন ও ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। প্রথমত, আমি এখন বুঝতে পেরেছি যে আমার দাবির বিপরীতে বিবিসি বাংলা বারবার হাসিনা ভারতে ‘পালিয়ে গেছেন’ লিখেছে। দ্বিতীয়ত, আমি এটাও বুঝতে পেরেছি যে, হাসিনা সরকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সংবাদ প্রচার করার নিষেধাজ্ঞা জারির পরও তারা তারেক রহমানের সংবাদ প্রচার করেছে। আর বর্তমানে তারেক রহমান বিবিসি বাংলায় আসবেন কি না, তা তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।’

Manual8 Ad Code

শফিকুল আলম বলেন, ‘এর বাইরে বিবিসি বাংলা হাসিনা ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিল দাবি করে যা লিখেছিলাম, তা আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং ক্ষমা চাচ্ছি।’

শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘যদিও আমি ভারসাম্য এবং প্রেক্ষাপটের ঘাটতির জন্য ব্যক্তিগত গল্পগুলোকে দোষ দিতে পারি, তবে আমি স্বীকার করি যে, বিবিসি বাংলাদেশের ঘটনাগুলো সঠিক ও ন্যায্যভাবে রিপোর্ট করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার ও হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের ফেলে যাওয়া ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের সকল সাংবাদিককে বিবিসি বাংলার মানদণ্ডেই কাজ করা উচিত জানিয়ে প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই বিবিসি বাংলার রিপোর্ট করার ক্ষমতা ও তৎপরতা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গড়বার এক অপরিহার্য স্তম্ভ।

Manual3 Ad Code

এর আগে, গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক এবং গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার ভক্ত হয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমটি যখন শেখ হাসিনার বিষয়ে লেখে, তখন তার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পটভূমি বাদ দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর উনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন এমন শব্দ ব্যবহার করতে তারা অধিকতর পছন্দ করে। বাস্তবতা হচ্ছে শেখ হাসিনা অসংখ্য শিশু হত্যা, নজিরবিহীন সহিংসতা, লুণ্ঠন, দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং তিন হাজারের বেশি মানুষকে গুম করে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

শফিকুল আলম লেখেন, ‘গত সপ্তাহে শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থাটি বলছে, শেখ হাসিনা তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে হত্যা এবং গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কিছুই উল্লেখ ছিল না। তারা বিপ্লবের পরে গণগ্রেপ্তার নিয়ে কথা বলতে বেশি পছন্দ করে।

শফিকুল আলম আরও লেখেন, ‘কোনো গণগ্রেপ্তার হয়েছে? কতজনকে গত ছয় মাসে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? আমরা জানতাম যে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পুলিশ বিএনপির সমাবেশকে জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গ করেছিল। তারপর কমপক্ষে ২৫ হাজার জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।’

Manual3 Ad Code

প্রেস সচিব আরও লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে বিবিসি বাংলা গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে একটি নিখুঁত প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। গতকাল তারা একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছে যে, হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রকৃতপক্ষে, এটি ‘বাংলার কসাইয়ের’ জন্য একটি নিখুঁত প্ল্যাটফর্ম! এটি কি কখনো নির্বাসিত বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে একই রকম প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে? হাসিনার স্বৈরশাসনের আমলে তারেক রহমান লন্ডনে কীভাবে সময় কাটাচ্ছিলেন, সে সম্পর্কে লিখেছিল? এটি কি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিল?’

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code