৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও উত্তীর্ণ! বিচলিত অন্য পরীক্ষার্থীরা।

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ০১:৪৩ অপরাহ্ণ
পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও উত্তীর্ণ! বিচলিত অন্য পরীক্ষার্থীরা।

Manual8 Ad Code

পিআইডি রিপোর্টার, ঢাকা

Manual3 Ad Code

কক্সবাজারে স্বাস্থ্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শেষে রাতে ফলাফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে, যা নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

স্বাস্থ্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা গতকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা শেষে রাতে ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ তুলে সেলিম খান নামের এক যুবক লিখেছেন, কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তালিকায় থাকা রোল নম্বর 24611608323 – ধারী ব্যক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণই করেননি।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত প্রার্থীর পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল বাংলা বাজার সুতুরিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, ৩য় তলা, ৬ নম্বর কক্ষ। পরীক্ষার দিন ওই কক্ষে মোট ২৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে এই রোল নম্বরধারী ব্যক্তিও একজন। অথচ প্রকাশিত ফলাফলে তাকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।

Manual5 Ad Code

এদিকে একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান নামের আরেক পরীক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন “এত দুই নম্বরি করে পরীক্ষা নিয়ে কোনো লাভ আছে কি? আমার আগের জন অনুপস্থিত ছিল আমি তার রোল নম্বর স্পষ্টভাবে মনে রাখছি। এখন দেখি তার রেজাল্ট এসেছে, অথচ আমার ৬০-এর বেশি নম্বর হয়েও ফলাফলে নাম নেই। কী আজব দেশ আমরা বাস করি!”

এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এদিকে এই সকল বিষয়গুলো কক্সবাজার জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে লেখালেখি, তবুও যেন কেন সবাই নীরব।

জাতীয় অনলাইন প্রেস কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও জাতীয় মানবাধিকার উন্নয়ন সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটি চেয়ারম্যান সাংবাদিক নেতা শেখ তিতুমীর আকাশ তার নিজ ভেরিফাই ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেন, সংস্কারে ভাসছে দেশ, কিন্তু চট্টগ্রাম কক্সবাজারে এই এরিয়া গুলোতে সরকারের একটু তদবির বাড়ানো প্রয়োজন মনে করি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের চাকরি প্রত্যাশীদের লেখালেখি এগুলো আজ আমাদের সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদেরকে, ভাবিয়ে তুলছে। অথচ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে মধ্য দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পরে অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কে বিভিন্ন স্থানে সংস্কারের মাধ্যমে সরকার বিশাল রদবদল দেখিয়েছে, এখানেও রয়েছে আমরা মনে করি অস্বচ্ছতা। আমরা মনে করি বর্তমান সরকারের এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বতার সাথে আরেকটু দেখা দরকার। সোশ্যাল মিডিয়াতে এসব ধরনের নতুন প্রজন্মের হাহাকার যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে জুলাইয়ের বিপ্লবের শহীদ সন্তানদের রক্তের সাথে এখনো যেন কারা দূর থেকে বসে বেইমানি করছে।

জাতীয় অনলাইন প্রেস কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলে দিতে চাই অবিলম্বে এই নাটকীয় পরীক্ষা কক্সবাজার সিভিল সার্জন মহোদয় সহ উক্ত পরীক্ষার সকল নিয়োগ কমিটির পুনরায় স্বচ্ছতা দেখাতে বর্তমান সরকারের যে চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন করিতে এই নাটকীয় নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

যদি এ বিবৃতি এবং নতুন প্রজন্মের চাকরি প্রত্যাশী ছেলেমেয়েদের হাহাকার শেষ না হয় প্রয়োজনে গোটা বাংলাদেশ সাংবাদিক সমাজ মানবাধিকার কর্মী গণহারে এই নিয়োগ কমিটিকে অপসারণ দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে পারে।

Manual7 Ad Code

হুমকি নয় জাতির বিবেক হিসেবে আমরা, বর্তমান সরকারের এই চ্যালেঞ্জ কে বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে একটু পিছপা হব না।

তিনি আরো বলেন, হুমকি নয় আমরা প্রয়োজনে এই বিষয়ে আগামীকাল বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয় গুলো নিয়ে বিবৃতি প্রদান করব।

Manual6 Ad Code

তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ফলাফল পুনঃযাচাই এবং অনুপস্থিত থেকেও উত্তীর্ণদের ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code