২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ১২:০২ অপরাহ্ণ
সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

Manual6 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

সিরিয়ার ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কংগ্রেসে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দামেস্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সিরিয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর ২০০০ সালের জুলাই মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন তার ছেলে বাশার আল আসাদ। বাশারের শাসনামলে সিরিয়ার ওপর ডজন ডজন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বিষয়ক নিষেধাজ্ঞাও ছিল।
সাবেক আল-কায়েদা নেতা আহমেদ আল শারার (মোহাম্মদ জোলানি) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শাম ও আরও কয়েকটি গোষ্ঠীর সামরিক অভিযানের মুখে গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদের সরকারের পতন ঘটে।

এরপর আহমেদ আল শারার নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। নতুন নেতৃত্ব দেশকে স্থিতিশীল করতে এবং আঞ্চলিক ও পশ্চিমা শক্তির সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু করে। নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুতই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো।
সৌদি আরব ও তুরস্কের অনুরোধে চলতি বছরের জুলাইয়ে সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রেসিডেন্ট শারা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন ও বিনিয়োগে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Manual2 Ad Code

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত সপ্তাহে বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিলের অংশ হিসেবে ‘২০১৯ সিজার সিভিলিয়ান প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বাতিল বিষয়ক বিল মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে তোলা হয়।
নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর বিলটি বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) উচ্চকক্ষ সিনেটে উত্থাপন করা হয়। ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ৭৭ জন সিনেটর, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২০টি। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি স্বাক্ষর করলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

Manual8 Ad Code

ভোটাভুটির পর সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য জিয়ান্নে শাহীন বলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে সিরিয়ার সাধারণ জনগণ যে অকল্পনীয় ভোগান্তি সহ্য করেছেন। এই পদক্ষেপের ফলে সেই ভোগান্তি থেকে বেরিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য সত্যিকারের সুযোগ পেলেন তারা।’
এদিকে নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল শাইবানি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।

Manual3 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code