২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বে টার্মিনাল নির্মাণে ধীরগতি, বছরে ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি!

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ণ
বে টার্মিনাল নির্মাণে ধীরগতি, বছরে ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি!

Manual8 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

শুধুমাত্র বে টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার করে বছরে অন্তত ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাংলাদেশ সরকার।

Manual5 Ad Code

একই সঙ্গে সময় গড়ানোর কারণে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার এমন প্রতিবেদনের পর চলতি বছরেই বে টার্মিনাল নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বে টার্মিনাল নির্মাণে ধীরগতি, বছরে ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি!

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতায় আটকে আছে পতেঙ্গা উপকূলবর্তী বে টার্মিনাল প্রকল্প। বিশেষ করে জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন ও বিনিয়োগকারী সংকটের সমাধান করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বে টার্মিনাল নির্মাণ না হওয়ায় ভবিষ্যতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের বাড়তি চাপ সামাল দিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি প্রতিবছর অন্তত ৩৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য আয় হারাচ্ছে দেশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। এতে বছরে ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। তাই বে টার্মিনাল যত দ্রুত করা সম্ভব হবে, ততই টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

Manual6 Ad Code

১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নযোগ্য বে টার্মিনাল প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপে মেরিন স্থাপনা উন্নয়ন, ব্রেক ওয়াটার নির্মাণ ও এক্সেস চ্যানেল ড্রেজিংয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ব্রেক ওয়াটার নির্মাণে ঋণচুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে। নির্ধারিত সময় পার হলেই এই ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ শুরু হবে। সে কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝির মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু করতে চায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।

Manual5 Ad Code

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জার্মানভিত্তিক একটি কনসালটেন্ট এই কাজটি করছে। তারা প্রতিবেদন জমা দিলেই পরবর্তী টেন্ডার ধাপে যাওয়া হবে। কাজটি চলমান রয়েছে এবং আশা করছি আগামী মে-জুনের মধ্যেই টেন্ডার ফ্লোট করা সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগরের পতেঙ্গা উপকূলবর্তী প্রায় ৮৫০ একর জায়গাজুড়ে এই বে টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি এই অঞ্চলকে একটি শক্তিশালী বিজনেস হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালে বে টার্মিনাল অপারেশনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে তা পিছিয়ে এখন ২০৩০ সাল ধরা হয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে অপারেশন শুরু করেছে। পাশাপাশি লালদিয়ায় একটি স্বতন্ত্র টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপি মুলারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, বে টার্মিনালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সময় এপি মুলার, পিসিটি কিংবা মাতারবাড়ি বন্দর ছিল না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বে টার্মিনালের জন্য পর্যাপ্ত কার্গো ভলিউম আছে কি না, সেটি নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বে টার্মিনালের তিনটি অংশের মধ্যে একটি অংশ নির্মাণ করবে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি, দ্বিতীয় অংশে থাকবে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং তৃতীয় অংশটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্মাণ করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

Manual7 Ad Code

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code