৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি পাঠালেন আর্টেমিস-২-এর নভোচারীরা

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ণ
মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি পাঠালেন আর্টেমিস-২-এর নভোচারীরা

Manual2 Ad Code

মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবি পাঠালেন আর্টেমিস-২-এর নভোচারীরা

শেখ স্বপ্না শিমুঃ আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী পৃথিবী ও চাঁদের মাঝামাঝি পথ অতিক্রম করেছেন এবং তারা নির্ধারিত লুনার ফ্লাইবাইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অভিযান শুরুর তিনদিনের মাথায় আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

Manual6 Ad Code

নাসা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, ‘আমরা এখন পথের অর্ধেক পেরিয়ে এসেছি।’ সংস্থাটির অনলাইন ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, নভোচারীদের বহনকারী অরিওন স্পেসক্রাফট বা মহাকাশযানটি এখন পৃথিবী থেকে প্রায় ১,৩৬,০৮০ মাইল (২,১৯,০০০ কিলোমিটার) দূরে রয়েছে।

এরই মধ্যে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর হাই-রেজল্যুশন ছবি পাঠিয়েছেন আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা। নাসা নভোচারীদের তোলা প্রথম ছবিগুলো প্রকাশও করেছে।

Manual6 Ad Code

মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এই নয়নাভিরাম ছবিগুলো তুলেছেন বলে জানিয়েছে নাসা। চাঁদের পথে যাত্রার শেষ ধাপে মহাকাশযানের ইঞ্জিন সফলভাবে প্রজ্বলনের (ইঞ্জিন বার্ন) পর এই দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করা হয়।

নাসা প্রথম ছবিটির নাম দিয়েছে ‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড’। এতে দেখা যাচ্ছে নীল জলরাশির আটলান্টিক মহাসাগর। পৃথিবীর ওপর সূর্যের আলো ঢাকা পড়ায় বায়ুমণ্ডলের একটি পাতলা উজ্জ্বল রেখা ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে পৃথিবীর দুই মেরুতে দেখা যাচ্ছে সবুজ রঙের মেরুজ্যোতি (অরোরা)।

Manual3 Ad Code

ছবিটিতে পৃথিবীকে কিছুটা উল্টো অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। বাম দিকে পশ্চিম সাহারা মরুভূমি ও আইবেরীয় উপদ্বীপ এবং ডান দিকে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ দৃশ্যমান। ছবির নিচের দিকে ডান পাশে উজ্জ্বল একটি গ্রহ শনাক্ত করেছে নাসা, যা মূলত শুক্র গ্রহ।

Manual6 Ad Code

গত বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে শক্তিশালী এস.এল.এস রকেটের পিঠে চেপে মহাকাশে উড়াল দেয় আর্টেমিস-২। অ্যাপোলো মিশন শেষ হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা এটি।

আজ শুক্রবার ভোরে ‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন’ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ছবিগুলো তোলা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে রওনা হয়।

আর্টেমিস-২ মিশনটি এখন একটি লুপ আকৃতির পথে এগোচ্ছে, যা নভোচারীদের চাঁদের অপর প্রান্তে ঘুরিয়ে নিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে এত দূরে পাড়ি জমাল। সব ঠিক থাকলে ৬ এপ্রিল নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশ (ফার সাইড) অতিক্রম করবেন এবং ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলকে জানান, ইঞ্জিন বার্ন সম্পন্ন হওয়ার পর নভোচারীরা যেন জানালার সঙ্গে ‘লেগে ছিলেন’ এবং একের পর এক ছবি তুলছিলেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা পৃথিবীর অন্ধকার দিকের একটি চমৎকার দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি, যা চাঁদের আলোয় আলোকিত।’

পরে অভিযানের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান হিউস্টনের মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ করে জানতে চান, জানালাগুলো কীভাবে পরিষ্কার করা যায়। মহাকাশ দেখার আগ্রহে নভোচারীরা এত বেশি সময় জানালার কাছে ছিলেন যে সেগুলো ময়লা হয়ে গিয়েছিল।

শুরুতে মহাকাশযান থেকে পৃথিবীর ছবি তুলতে কিছুটা সমস্যায় পড়েন কমান্ডার। তিনি জানান, এত দূর থেকে ছবি তুলতে গিয়ে এক্সপোজার সেটিং ঠিক করা কঠিন হয়ে পড়ছিল। ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলকে বলেন, ‘এটা ঠিক যেন আপনি বাড়ির পেছনে গিয়ে চাঁদের ছবি তুলতে চেষ্টা করছেন। এখন ঠিক তেমনটাই মনে হচ্ছে।’

মহাকাশ থেকে তোলা অন্য একটি ছবিতে পৃথিবীর দিন ও রাতের স্পষ্ট বিভাজন ধরা পড়েছে। আলো ও অন্ধকারের এই মিলনরেখাটি ‘টার্মিনেটর’ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে নাসা আরও একটি ছবি প্রকাশ করে যেখানে ঘুটঘুটে অন্ধকারে পৃথিবীর বুকে মানুষের জ্বালানো বৈদ্যুতিক আলোর ঝিলিক দেখা যাচ্ছে।

নাসা ২০২৬ সালের এই ছবির সঙ্গে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের তোলা পৃথিবীর একটি ছবি প্রকাশ করে দুটির তুলনা করেছে। অ্যাপোলো-১৭ ছিল চাঁদের বুকে মানুষের শেষ পদযাত্রা। নাসা তাদের বার্তায় লিখেছে, গত ৫৪ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু একটি জিনিস বদলায়নি: মহাকাশ থেকে আমাদের ঘরকে (পৃথিবী) এখনও অপূর্ব দেখায়!

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code