৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ণ
সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

Manual6 Ad Code

সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

লোকমান ফারুক, রংপুরঃ রংপুরের সমবায় মার্কেটের একটি রেস্টুরেন্টের বরাদ্দমূল্য তিন কোটি টাকা। দোকান বরাদ্দ হয়েছে, একজন কাস্টমস্ কর্মকর্তার স্ত্রী মারুফা আক্তার নামে; অর্থ জমা হয়েছে নিয়মমাফিক। ফ্লোর ভাড়ার চুক্তিপত্র আছে। হিসাব আছে। অর্থ জমা দাতা হিসেবে নামে আছেন একজন–মাহবুবুর রহমান। তিনি সম্পর্কে ওই কর্মকর্তার শ্বশুর। কিন্তু প্রশ্নটা নামের নয় প্রশ্নটা–সামর্থ্যের।

Manual3 Ad Code

সমবায় সমিতির একাধিক নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে,
ওই রেস্টুরেন্টটির পজিশন মূল্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য অংকের অর্থ মাহবুবুর রহমানের মাধ্যমে জমা হয়েছে।
লেনদেনটি আনুষ্ঠানিক। কাগজে কোনো ত্রুটি নেই।
সবকিছু ঠিকঠাক–যতক্ষণ না প্রশ্নটি করা হয়:
এই অর্থ কোথা থেকে এলো? মাহবুবুর রহমানের পেশা ও আয়ের উৎস সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে যে তথ্য পাওয়া যায়,
তা ওই পরিমাণ বিনিয়োগের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার পরিচিত আয়ের ধরণ–ছোট পরিসরের ব্যবসা, পারিবারিক সম্পদও সীমিত। স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন–”ওনার অবস্থা আমরা জানি। এত বড় অংকের টাকা একসাথে দেওয়ার মতো কিছু চোখে পড়েনি।” আরেকজন বললেন–”হঠাৎ করে এত টাকা কোথা থেকে এলো–এটাও তো একটা প্রশ্ন।”

এই বরাদ্দমূল্য পরিশোধের জন্য মাহবুবুর রহমানের কোনো ট্যাক্স রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা বড় আয়ের বৈধ উৎসের নথি উপস্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে তিনি প্রয়াত। প্রশ্ন করা হলে–সমবায় ব্যাংকের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। নথি নেই। ব্যাখ্যাও নেই। কিন্তু
ক্রেতা আসছে, অর্ডার হচ্ছে, ব্যবসা চলছে। সংখ্যাটা দাঁড়িয়ে আছে–ডেকোরেশন সহ সাড়ে চার কোটি। একদিকে–সীমিত আয়ের পরিচিত প্রোফাইল। অন্যদিকে–বরাদ্দমূল্য ও ডেকোরেশন সহ সাড়ে চার কোটি টাকার বিনিয়োগ। এই দুইয়ের মাঝখানে যে ফাঁক তৈরি হয়, সেটিই এখন এই অনুসন্ধানের কেন্দ্র। এই ফাঁকটা শুধু সংখ্যার নয়–এটি প্রশ্নের ফাঁক। যেখানে জিজ্ঞাসা একটাই: টাকাটা কার?

Manual4 Ad Code

সমবায় মার্কেটের সেই রেস্টুরেন্টটি এখন চালু। দরজা খোলা। বেচাকেনা থেমে নেই। বাইরের চোখে সবকিছুই স্বাভাবিক–যেন হিসাবের খাতায় কোনো দাগ নেই।
কিন্তু ভেতরে একটি প্রশ্ন জমাট বেঁধে আছে–এই সাড়ে চার কোটি টাকার উৎস কি সত্যিই মাহবুবুর রহমান?
নাকি তিনি কেবল একটি নাম–একটি আড়াল?
টাকাটা কি এসেছে কাস্টমস কর্মকর্তা জামাতার দিক থেকে, আর হাত বদল হয়ে পৌঁছেছে শ্বশুরের মাধ্যমে?
নাকি এই লেনদেনের ভেতরে আরও অদৃশ্য কোনো হাত আছে–যার ছায়া কাগজে পড়ে না, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে তারই? প্রশ্নগুলো আপাতত নীরব। কিন্তু সংখ্যাগুলো নীরব নয়।

 

Manual6 Ad Code

অনুসন্ধান চলমান

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code