৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দুর্বল কাঁধে বিশাল দায়িত্ব, ভার বহনের চেষ্টা করব: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ণ
দুর্বল কাঁধে বিশাল দায়িত্ব, ভার বহনের চেষ্টা করব: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

Manual7 Ad Code

দুর্বল কাঁধে বিশাল দায়িত্ব, ভার বহনের চেষ্টা করব: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

শেখ স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টারঃ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর নাসিমুল গনি বলেছেন, দুর্বল কাঁধে বিশাল দায়িত্ব-এ ভার বহনের চেষ্টা করব। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি নতুন পদে যোগ দিতে সচিবালয়ের নতুন এক নম্বর ভবনে আসেন।
এসময় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশের একটা যুগসন্ধিক্ষণে আমার দুর্বল স্কন্ধে (কাঁধে) বিশাল দায়িত্ব পড়েছে। আমি সেটার ভার বহনের চেষ্টা করব, আমার সাধ্যমতো। অতীতে যেভাবে কাজ করেছি সেভাবেই কাজ করব।

Manual8 Ad Code

নাসিমুল গণি দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের একদিন আগে তিনি জনপ্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার পদে দায়িত্ব পেলেন। সুষ্ঠু নির্বাচন করার কারণে কি আপনাকে উপহার হিসেবে এই পদ দেওয়া হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্তব্য নেই।’ এই সময়ে দায়িত্ব নেওয়াটাকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য সব দায়িত্বই চ্যালেঞ্জ।’

Manual8 Ad Code

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে নাসিমুল গণি বলেন, আমি এখনও যোগদান করতে পারিনি। তবে র জানা মতে সকালে (মঙ্গলবার) দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একটা তো তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন, পরবর্তীকালে এই যে আমাদের সংস্কার, সেটার জন্য শপথ নেবেন। বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে। সেটার ব্যবস্থা করার জন্য এই মুহূর্তে উঠেপড়ে লেগেছি ক্যাবিনেট ডিভিশন। বিস্তারিত আসলে আপনাদের জানাবো।

Manual8 Ad Code

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম আজ প্রকাশ করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন,এটা নির্ভর করে যিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী হবেন তার সিদ্ধান্তের ওপর। আমাদের সেই প্রস্তুতির জন্যই আসছি এখন। পরে আমরা যোগাযোগ স্থাপন করব। তারপর যখন বলা হবে তখন নামগুলো সবাই জানতে পারবেন।

Manual1 Ad Code

মন্ত্রিসভা কত সদস্যের হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই আমার এ মুহূর্তে। কারণ এটা কতজনের মন্ত্রিসভা হবে সেটা ওনারাই ভালো বুঝবেন। আমাদের একটা প্রস্তুতি থাকে, পরে কম-বেশি হতে পারে। এটা স্ট্যান্ডার্ড যে প্রক্রিয়া সেটাই নতুন কিছু না।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা পাওয়ার পর তাদের জন্য যে সহায়তা লাগে- একজন মন্ত্রীর আসার জন্য একটি গাড়ি লাগে, একজন দেহরক্ষী থাকেন, তার বাসস্থান কোথায় হবে সে ব্যবস্থা ও তার সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে হয়। তার অফিসকে জানাতে এবং নিজস্ব যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করবেন তাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হয়। এসব কিছু দেখতে হয়।

আপনারা প্রস্তুত কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার সব সময় প্রস্তুত থাকে, সরকার ফেইল করে না।এর আগে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার নাসিমুল গনিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগে সিনিয়র সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট এ পদে যোগ দেন। এরপর তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তিনি একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর সিনিয়র সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।

নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ওই ক্যাডারের ১৪২ জনের মেধা তালিকায় তার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। ২০০৯ সালে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাকে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code