২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual2 Ad Code

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সেনা প্রধান মোহাম্মেদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদ এবং তার সঙ্গে থাকা চারজন লিবিয়ান কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ ডেবেইবা।
আল-হাদ্দাদকে নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া প্রাইভেট জেটটি লিবিয়া সরকার ভাড়া করেছিল ।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এটিকে ‘মর্মান্তিক দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ ডেবেইবা তার বিবৃতিতে বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা জাতির, সামরিক প্রতিষ্ঠানের এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় ক্ষতি। আমরা এমন ব্যক্তিদের হারালাম যারা আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে তাদের দেশকে সেবা করেছেন।’

Manual4 Ad Code

দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা গ্রাউন্ড ফোর্সেস চিফ অফ স্টাফ আল-ফিতৌরি ঘারিবিল, মিলিটারি ম্যানুফ্যাকচারিং অথরিটির পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাউই, আল-হাদ্দাদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাউই দিয়াব এবং মিলিটারি ফটোগ্রাফার মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।

Manual8 Ad Code

আলজাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে একজন তুর্কি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছে, ওই দুর্ঘটনায় তিনজন ক্রু মেম্বারও নিহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বৈদ্যুতিক ত্রুটির সমস্যা দেখা দিলে বিমানটি থেকে জরুরি অবতরণের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তবে তারা আর নিরাপদে ফিরতে পারেননি।

Manual6 Ad Code

প্রেসিডেন্সির কমিউনিকেশন ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দুরান সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন,‘ লিবিয়ার সেনা প্রধান মোহাম্মেদ আল-হাদ্দাদ, তার চারজন সহযোগী এবং তিনজন ক্রু সদস্য নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল প্রাইভেট জেট বিমানটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে তারা বিমান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে অবহিত করে জরুরি অবতরণের অনুমতি চেয়েছিল।’

তুরস্কের আভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, বিমানটি লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির উদ্দেশে আঙ্কারা থেকে উড়ার পর দুই কিলোমিটার দূরে কেসিককাভাক গ্রাম সংলগ্ন হায়মানা অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়।

আল জাজিরাকে তুরস্কের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। সন্ত্রাস বা কোনো আক্রমণের আলামত এখন পর্যন্ত মেলেনি।
তুর্কি সমকক্ষ ও অন্যান্য সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করতে আঙ্কারায় এই সফরে এসেছিলেন আল-হাদ্দাদ ও তার সঙ্গীরা। তারা যে প্রাইভেট জেটে করে তুরস্ক সফরে আসেন, সেটি লিবিয়া সরকারের ভাড়া করা বিমান।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code