৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সকল সদস্যের অনাস্থা

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ৯, ২০২৫, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সকল সদস্যের অনাস্থা

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ৮নং কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী নেতা মো. শহিদুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

Manual4 Ad Code

এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সকল সদস্য একযোগে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছেন। প্রস্তাবটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সুজন পরিষদের নিয়মনীতি ও গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

Manual4 Ad Code

বাজেট প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বণ্টন, টেন্ডার, ভাতা বিতরণসহ গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং সদস্যদের মতামত সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে তিনি ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী সদস্য বলেন, “পরিষদের কোনো সভায় আমাদের ডাকা হয় না। বাজেট বা উন্নয়ন প্রকল্প—কিছুই আমাদের জানানো হয় না।” আরেক সদস্য বলেন, “দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

জনগণের স্বার্থে অনাস্থা আনার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।” অভিযোগে বলা হয়, উন্নয়ন সহায়তার বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান সুজন ৮ জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্র দেড় লক্ষ টাকার কাজ সম্পন্ন করে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

এছাড়া, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে সিমকার্ড সংগ্রহ করে দুই বছর ভাতার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে। পরে সিমকার্ডগুলো ব্লক করে ফেরত দেন ভুক্তভোগীদের হাতে। আরও জানা যায়, ভিজিডি কার্ডের আশ্বাস দিয়ে কাজলা গ্রামের রঞ্জু আকন্দের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা নেন চেয়ারম্যান সুজন। টাকা ফেরত দিতে দেরি হলে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন তিনি।

Manual2 Ad Code

একইভাবে, ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শোলার তাইড় দক্ষিণপাড়া মেইন রাস্তা থেকে হরফ আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রকল্পে শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে প্রকল্পের বিল তুলে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান। ইউপি সদস্যদের সম্মানীভাতা চার বছর ধরে পরিশোধ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০টি মাতৃত্বকালীন ভাতার অনুমোদনপত্র সদস্যদের দেখানো হয়নি।

এছাড়া পরিষদের কাউকে না জানিয়ে ট্যাক্স বই নিজ বাড়িতে রেখে এককভাবে ট্যাক্স আদায় করেছেন চেয়ারম্যান সুজন। সরকারি বিভিন্ন ভাতা, টিসিবি কার্ড বণ্টন ও উন্নয়ন প্রকল্পে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানালাম, কিন্তু এখন কোনো কাজেই তাকে পাওয়া যায় না। টাকা ছাড়া কিছুই হয় না।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এলাকাবাসী জানান, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Manual2 Ad Code

ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উপজেলা প্রশাসনে জমা দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

Sharing is caring!

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code