২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে ফিরেই বাজিমাত করেছিলেন যেসব বিশ্বনেতারা

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ নির্বাসনের পর দেশে ফিরেই বাজিমাত করেছিলেন যেসব বিশ্বনেতারা

Manual5 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

যুগে যুগে বহু বিশ্বনেতা প্রমাণ করেছেন যে নির্বাসন মানেই বিলুপ্তি নয়। জনগণের ভালোবাসা আর আদর্শের জোরে চাইলেই বিশ্বজয় করা সম্ভব।

Manual7 Ad Code

এই তালিকায় রয়েছে লেনিন, ম্যান্ডেলা, খোমেনি ও বেনজির ভুট্টোর মতো নেতার নাম। যারা দীর্ঘদিনের নির্বাসনের পর দেশে ফিরে জয় করে নিয়েছেন মানুষের মন।

নেলসন ম্যান্ডেলা, রুহুল্লাহ খোমেনি ও বেনজির ভুট্টো। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে দীর্ঘদিনের নির্বাসন, অবশেষে দেশে ফিরেই বাজিমাত। ইতিহাসের পাতা ওল্টালে এমন ঘটনার নজির কম নয়।

Manual3 Ad Code

জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে রাজনৈতিক নিপীড়নের মুখে বেনজির ভুট্টো আশির দশকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্ব ও আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। জিয়া সরকারের পতন ও সামরিক শাসনের অবসানের পর বেনজির দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেন।

১৯৮৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ১৯৯৩ সালেও তিনি আবার ক্ষমতায় ফেরেন।

বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর মুসলিম রাষ্ট্র ইরানেও দেখা গেছে এমন নজির। শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে ১৯৬৪ সালে রুহুল্লাহ খোমেনিকে দেশ ছাড়া করা হয়।

তিনি তুরস্ক, ইরাক ও পরে ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন কাটান। বিদেশে থেকেই বক্তৃতা, বার্তা ও ধর্মীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যান।১৯৭৯ সালে গণআন্দোলনের মুখে শাহ দেশত্যাগ করলে খোমেনি ইরানে ফিরে আসেন।

দ্রুতই বিপ্লবের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

জার শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কারণে বারবার গ্রেফতার হন রাশিয়ার ভ্লাদিমির লেনিন। একপর্যায়ে সাইবেরিয়ায় তিনি নির্বাসিত হন। পরে দীর্ঘ সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন।

নির্বাসনেই তিনি বলশেভিক মতাদর্শ গড়ে তোলেন।১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চাপে রাশিয়ায় রাজনৈতিক ভাঙন শুরু হলে জার্মানির সহায়তায় ‘সিল করা ট্রেনে’ করে লেনিন রাশিয়ায় ফিরে আসেন।

সে বছরই অক্টোবরে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করেন এবং সোভিয়েত রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আসেন।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের উজ্জ্বল এক নাম নেলসন ম্যান্ডেলা। যে কারণে ১৯৬২ সালে গ্রেফতার হন ম্যান্ডেলা। ১৯৬৪ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

Manual4 Ad Code

প্রায় ২৭ বছর তিনি কারাগারে কাটান। আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের মুখে বর্ণবাদী শাসন দুর্বল হলে ১৯৯০ সালে মুক্তি পান ম্যান্ডেলা।

Manual7 Ad Code

তিনি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বর্ণবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটান এবং ১৯৯৪ সালের প্রথম বহুজাতিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code