২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

অস্ত্র হাতে টহল দিতে হলে কোনো দেশই গাজায় সেনা পাঠাবে না: জর্ডানের বাদশাহ

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৫:৪৮ অপরাহ্ণ
অস্ত্র হাতে টহল দিতে হলে কোনো দেশই গাজায় সেনা পাঠাবে না: জর্ডানের বাদশাহ

Manual5 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের আওতায় গাজায় শান্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিতে কোনো দেশ আগ্রহী হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতায় যদি আন্তর্জাতিক বাহিনীকে ‘শান্তি প্রয়োগকারী’ হিসেবে মোতায়েন করা হয়, তাহলে কোনো দেশই তাতে অংশ নিতে চাইবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আরব দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা করবে।

এ বাহিনী প্রশিক্ষিত ফিলিস্তিনি পুলিশকে সহায়তা করবে এবং জর্ডান ও মিশরের সঙ্গে পরামর্শ করবে—যাদের এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসকে অস্ত্র সমর্পণ করে গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হবে।

Manual3 Ad Code

বাদশাহ আবদুল্লাহ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘গাজায় নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব কী হবে? আমরা আশা করি এটি শান্তিরক্ষা মিশন হবে। কারণ যদি এটি শান্তি প্রয়োগের ম্যান্ডেট পায়, তাহলে কেউই এতে অংশ নিতে চাইবে না।’ বিবিসি প্যানোরামাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, জর্ডান ও মিশর ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মানে হচ্ছে স্থানীয় ফিলিস্তিনি পুলিশকে সহায়তা করা—যা জর্ডান ও মিশর বড় পরিসরে করতে ইচ্ছুক, তবে এতে সময় লাগবে। কিন্তু যদি আমাদের গাজার রাস্তায় অস্ত্র হাতে টহল দিতে হয়, তাহলে কোনো দেশই এমন পরিস্থিতিতে জড়াতে চাইবে না।

বাদশাহ আব্দুল্লাহর মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সেই উদ্বেগকেই প্রতিফলিত করেছে, যাতে হামাস ও ইসরাইল কিংবা হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চায় না।

তিনি বলেন, জর্ডান গাজায় সেনা পাঠাবে না, কারণ দেশটি রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত’।

Manual4 Ad Code

জর্ডানের অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত, আর দেশটি গত কয়েক দশকে ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে—যা অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

গাজায় রাজনৈতিক ভূমিকা ত্যাগ করার বিষয়ে হামাসের প্রতি আস্থা আছে কিনা এমন প্রশ্নে জর্ডানের বাদশাহ বলেন, ‘আমি তাদের চিনি না, কিন্তু কাতার ও মিশরের যেসব কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, তারা খুবই আশাবাদী যে হামাস তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

Manual1 Ad Code

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমরা এই সমস্যার সমাধান না করি, যদি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের জন্য কোনো ভবিষ্যৎ ও আরব-মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক তৈরি না হয়, তাহলে আমরা সবাই ধ্বংসের মুখে পড়ব।’

Manual8 Ad Code

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code