২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের থাড রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করলো ইরান।

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের থাড রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করলো ইরান।

Manual7 Ad Code

জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের থাড রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করলো ইরান।

শেখ স্বপ্না শিমুঃ জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন।

জর্ডানের মুওয়াফফাক আস-সালতি বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত আরটিএক্স করপোরেশনের এন/টিপিওয়াই–২’রাডার এবং এর সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে।

Manual5 Ad Code

জর্ডানের মুওয়াফফাক আস-সালতি বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত আরটিএক্স করপোরেশনের এন/টিপিওয়াই–২’রাডার এবং এর সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে।

Manual3 Ad Code

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক আস-সালতি বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত আরটিএক্স করপোরেশনের এন/টিপিওয়াই–২’রাডার এবং এর সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে যা যুদ্ধের শুরুর দিকেই ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এর একটি ঘটে যুদ্ধের প্রথম দিন গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এবং দ্বিতীয়টি গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ)। যদিও সেই সময় হামলাগুলো প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্রের উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, ‘যদি রাডার ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তাহলে থাড রাডারের ওপর এটি ইরানের অন্যতম সফল আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।’

Manual8 Ad Code

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্রদের কাছে আরও কিছু রাডার ব্যবস্থা রয়েছে, যা আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। ফলে একটি রাডার হারালেও পুরো ব্যবস্থার ওপর প্রভাব কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড ব্যবস্থার প্রধান কাজ হলো বায়ুমণ্ডলের একেবারে শেষ সীমানায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা। এটি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় আরও জটিল ও উচ্চগতির হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম।

কিন্তু এন/টিপিওয়াই–২ রাডার অকেজো হয়ে যাওয়ায় এখন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের বড় দায়িত্ব পড়বে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর। তবে প্যাট্রিয়টের পিএসি–৩ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এরই মধ্যেই সীমিত হয়ে এসেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামসহ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র আটটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যার মধ্যে শুধু রাডারের দামই প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code