২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহে ভোগান্তি, ডেলিভারি জটিলতায় ব্যালট ফেরত যাওয়ার শঙ্কা

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহে ভোগান্তি, ডেলিভারি জটিলতায় ব্যালট ফেরত যাওয়ার শঙ্কা

Manual7 Ad Code

স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার

Manual3 Ad Code

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করলেও বিদেশে তা হাতে পাওয়া নিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় পোস্টাল সার্ভিসের গাফিলতি ও ট্র্যাকিং জটিলতায় অনেক প্রবাসীর ভোট দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা

Manual7 Ad Code

মালয়েশিয়া প্রবাসী আইটি বিশেষজ্ঞ ও ‘ইয়ুথ হাব’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার সময় সংবাদকে জানান, দেশের যোগ্য সেবক নির্বাচনে প্রবাস থেকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়াটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় ছিল। কিন্তু মালয়েশিয়ার পোস্টাল সার্ভিস ‘পোস লাজু’ এর অব্যবস্থাপনায় সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অ্যাপের ট্র্যাকিং সিস্টেমে তার ব্যালট পেপারটি ‘ডেলিভারড’ দেখালেও বাস্তবে তিনি সেটি পাননি। এমনকি ডাকবিভাগ থেকে তাকে কোনো ফোন কল বা আগাম নোটিশও দেয়া হয়নি।

পরবর্তীতে তিনি কুয়ালালামপুরে ‘পোস লাজু’ এর প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে ফোনে না পেয়ে পার্সেলটি ফেরত পাঠানোর তালিকায় রাখা হয়েছে। অথচ পাভেল সারওয়ারের দাবি, তাকে কোনো কলই করা হয়নি। ব্যালট সংগ্রহ করতে গিয়ে পাভেল সারওয়ার সেখানে আরও ৪-৫ জন বাংলাদেশিকে একই সমস্যায় পড়তে দেখেন।

Manual2 Ad Code

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেয়া আমার অধিকার। কিন্তু পোস্টাল সার্ভিসের এমন গাফিলতি হতাশাজনক। আমি নিজে সরাসরি অফিসে গিয়ে ব্যালট সংগ্রহ না করলে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকতো না। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে একই অভিযোগ নিয়ে সেখানে আসতে দেখলাম।’

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্য প্রবাসী ভোটারদের সতর্ক করে পাভেল সারওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপের ট্র্যাকিং তথ্যের ওপর নির্ভর করবেন না, সরাসরি ‘পোস লাজু’ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিত ট্র্যাকিং নাম্বার চেক করুন, ট্র্যাকিং-এ কোনো অস্বাভাবিকতা বা বিলম্ব দেখলে ফোনের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন, ব্যালটটি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার আগেই তা সংগ্রহ নিশ্চিত করুন।

Manual7 Ad Code

সচেতন মহল মনে করছেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরি। দূতাবাসগুলো যদি পোস্টাল সার্ভিসের সাথে সমন্বয় করে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান করে তবে এই প্রক্রিয়া আরও সফল হবে।

প্রবাসীদের এই ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Sharing is caring!

ইতালি থেকে কিউবা— বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার দীর্ঘ অপেক্ষায় আছেন যারা শেখ স্বপ্না শিমুঃ আবারও সেই হাহাকার, আবারও সেই গভীর বেদনার গল্প। যে দলটিকে ছাড়া একসময় বিশ্বকাপের মঞ্চ কল্পনাই করা যেত না, সেই ইতালি এখন যেন নিজেই এক ট্র্যাজেডির প্রতীক। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০০৬ সালের বার্লিন জয়ের স্মৃতি যেন সেই সুদূর অতীতের গল্প। সময় গড়িয়ে গেছে দুই দশক। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইতালির সাফল্য বলতে আছে মাত্র একটি জয়— যা তাদের পতনের গভীরতাকেই আরও স্পষ্ট করে তোলে। ফলে ২০৩০ সালের আগে বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কোনো সুযোগও নেই তাদের সামনে। আচ্ছা, বিশ্বকাপ মানেই কি শুধু বড় দলগুলোর মঞ্চ? একসময় উত্তরটা ছিল ‘হ্যাঁ’। কিন্তু এখন গল্পটা বদলে গেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিন বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা শুধু একটা দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের বদলে যাওয়ার একটা প্রতিচ্ছবি। তবে ইতালি একা নয়। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক দল আছে, যারা একসময় বিশ্বকাপে খেললেও এখন যেন হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে সুযোগ পায়নি সংযুক্ত আরব আমিরাত: বিশ্বকাপের মঞ্চে যাদের উপস্থিতি এখন শুধুই এক দূর স্মৃতি। প্রথম এবং একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৯০ সালে। সেই স্বপ্নময় যাত্রার পর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর ফেরা হয়নি। ৪০ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই হাঙ্গেরি: হাঙ্গেরির নামটা বোধহয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে খুব বেশি অপরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ, একসময় ইউরোপের পরাশক্তি ছিল হাঙ্গেরি। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা। কিন্তু ১৯৮৬ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে। হিসেব করলে দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর ধরে তারা বিশ্বকাপের বাইরে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বকাপে নেই এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ এল সালভাদর— বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। বিশ্বমঞ্চে খেলেছে মাত্র দুবার— ১৯৭০ এবং ১৯৮২ সালে। এরপর থেকে আর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি দেশটি। ৪৪ বছর ধরে বিশ্বমঞ্চে নেই কুয়েত: মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যাদের গল্পটা সংক্ষিপ্ত হলেও স্মরণীয়। ১৯৮২ সালে একবারই বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও আর কখনোই বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরা হয়নি কুয়েতের। ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষায় ইসরাইল: ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তারা বিশ্বকাপ থেকে দূরে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার: সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষাটা কিউবার। ১৯৩৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা— যা আজও তাদের সেরা সাফল্য। কিন্তু এরপর প্রায় এক শতাব্দী হতে চলেছে, বিশ্বকাপে আর দেখা যায়নি তাদের।

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code