স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করলেও বিদেশে তা হাতে পাওয়া নিয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় পোস্টাল সার্ভিসের গাফিলতি ও ট্র্যাকিং জটিলতায় অনেক প্রবাসীর ভোট দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা
মালয়েশিয়া প্রবাসী আইটি বিশেষজ্ঞ ও ‘ইয়ুথ হাব’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল সারওয়ার সময় সংবাদকে জানান, দেশের যোগ্য সেবক নির্বাচনে প্রবাস থেকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাওয়াটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় ছিল। কিন্তু মালয়েশিয়ার পোস্টাল সার্ভিস ‘পোস লাজু’ এর অব্যবস্থাপনায় সেই আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অ্যাপের ট্র্যাকিং সিস্টেমে তার ব্যালট পেপারটি ‘ডেলিভারড’ দেখালেও বাস্তবে তিনি সেটি পাননি। এমনকি ডাকবিভাগ থেকে তাকে কোনো ফোন কল বা আগাম নোটিশও দেয়া হয়নি।
পরবর্তীতে তিনি কুয়ালালামপুরে ‘পোস লাজু’ এর প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ জানায়, তাকে ফোনে না পেয়ে পার্সেলটি ফেরত পাঠানোর তালিকায় রাখা হয়েছে। অথচ পাভেল সারওয়ারের দাবি, তাকে কোনো কলই করা হয়নি। ব্যালট সংগ্রহ করতে গিয়ে পাভেল সারওয়ার সেখানে আরও ৪-৫ জন বাংলাদেশিকে একই সমস্যায় পড়তে দেখেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেয়া আমার অধিকার। কিন্তু পোস্টাল সার্ভিসের এমন গাফিলতি হতাশাজনক। আমি নিজে সরাসরি অফিসে গিয়ে ব্যালট সংগ্রহ না করলে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকতো না। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশিকে একই অভিযোগ নিয়ে সেখানে আসতে দেখলাম।’
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অন্য প্রবাসী ভোটারদের সতর্ক করে পাভেল সারওয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপের ট্র্যাকিং তথ্যের ওপর নির্ভর করবেন না, সরাসরি ‘পোস লাজু’ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিয়মিত ট্র্যাকিং নাম্বার চেক করুন, ট্র্যাকিং-এ কোনো অস্বাভাবিকতা বা বিলম্ব দেখলে ফোনের অপেক্ষা না করে দ্রুত নিকটস্থ পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করুন, ব্যালটটি বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার আগেই তা সংগ্রহ নিশ্চিত করুন।
সচেতন মহল মনে করছেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরি। দূতাবাসগুলো যদি পোস্টাল সার্ভিসের সাথে সমন্বয় করে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান করে তবে এই প্রক্রিয়া আরও সফল হবে।
প্রবাসীদের এই ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Sharing is caring!